নাটোরের লালপুরে থানা হেফাজতে আসামিদের নির্যাতনের অভিযোগে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের একটি মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে তিনজনকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লালপুর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসলেম উদ্দিন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য নাটোরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ছাড়া, আসামিদের বক্তব্য ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন পর্যালোচনা করে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য নাটোরের জেল সুপার ও আধুনিক সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসামিদের শরীরে থাকা জখমের কারণ এবং জখমের সুনির্দিষ্ট বর্ণনা দিয়ে মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রস্তুত করে আগামী বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে আদালতে উপস্থাপন করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।
অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজিব, লালপুর থানার ওসি উজ্জ্বল হোসেন, এসআই জাহিদ হাসান, ওমর ফারুক ও একজন কনস্টেবল।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, লালপুর থানার পুলিশ অটোরিকশা ছিনতাই মামলায় পাবনার ঈশ^রদীর ফতেহ মোহাম্মদপুর গ্রামের মো. সোহাগ (৩০), মোকাররমপুর গ্রামের মো. সালাম (৩১), নাটোরের বড়ইগ্রামের নগর গ্রামের শামীম মোল্লা (২৯) ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বারাদি গ্রামের রাকিবুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করে। গত বুধবার তাদের লালপুর আমলি আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিরা আদালতের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে পুলিশের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবদুল্লাহ বিশ^াস বলেন, চার আসামির মধ্যে একজন বাদে তিনজনই থানায় পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ করেন।
তবে লালপুর থানার ওসি উজ্জ্বল হোসেন থানায় আসামিদের নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করেছেন।
