ঢাকা-১৭ আসনে ভোট চলাকালে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী আশরাফুল হোসেন ওরফে হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ (ডিবি) ১৬ জনকে আটক করে। পরে তাদের বনানী থানায় হস্তান্তর করলে পুলিশ নয়জনকে ছেড়ে দিয়েছে। আর যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তারা আওয়ামী লীগের সমর্থক, যাদের অনেকেই থানা ও ওয়ার্ড ছাত্রলীগ এবং শ্রমিক লীগের পদধারী।
ডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, ঘটনার পর তাৎক্ষণিক ১৬ জনকে আটক করা হয়। পরে বনানী থানায় হস্তান্তর করা হয়। থানা পুলিশ যাচাই-বাছাই করে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে গ্রেপ্তারদের রাজনৈতিক পরিচয় জানা নেই বলে জানিয়েছেন ডিবির কর্মকর্তারা।
ডিবির আটক ১৬ জনের নয়জনকে কীসের ভিত্তিতে ছাড়া হয়েছে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন করলেও বনানী থানার ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফোন কেটে দেন।
তবে পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাদের ছাড়া হয়েছে। হামলার সঙ্গে তারা সরাসরি জড়িত ছিলেন না।
উল্লেখ্য, হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার সাতজন হলেন, ছানোয়ার কাজী (২৮), বিপ্লব হোসেন (৩১), মাহমুদুল হাসান মেহেদী (২৭), মোজাহিদ খান (২৭), আশিক সরকার (২৪), হৃদয় শেখ (২৪) ও সোহেল মোল্লা (২৫)। গত মঙ্গলবার তাদের প্রত্যেককে সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে পাঠানো হয়।
শুনানি শেষে আদালত ছানোয়ার কাজী (২৮) ও বিপ্লব হোসেনকে (৩১) তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি পাঁচজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
গত সোমবার ভোট গ্রহণ চলাকালে বেলা সোয়া তিনটার দিকে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে যান হিরো আলম। সেখানে তাকে রাস্তায় ফেলে পেটানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আশিক সরকার ঢাকা মহানগর উত্তর ২০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও মাহমুদুল হাসান বনানী থানা ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক। বিপ্লব হোসেন বনানী থানা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হৃদয় শেখ ছাত্রলীগ নেতা আশিকের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। মোজাহিদ খান, ছানোয়ার কাজী ও সোহেল মোল্লা দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নেন।
আশিক বনানীতে কড়াইলের মোশারফ বাজার বস্তিতে থাকেন। তার বাড়ি কুমিল্লার হোমনার পাতালিয়া কান্দিতে। মাহমদুল হাসান বনানীতে থাকেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বর্ণী গ্রামে। বিপ্লব হোসেন মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের ৩ নম্বর লেনের বাউনিয়াবাদে থাকেন। ছানোয়ার কাজী মহাখালীর ওয়্যারলেস গেটে থাকেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার গোয়ালগ্রামে।
হিরো আলমের ব্যক্তিগত সহকারী মো. সুজন রহমান ওরফে শুভ বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জনকে আসামি করে বনানী থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় এদের গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনি জনতাবদ্ধ হয়ে হিরো আলমের গতিরোধ করে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে।
