‘ডেঙ্গুতে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভারতের চেয়ে আমরা ভালো আছি’

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৩, ০৯:০৬ পিএম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, আমরা সবাই ডেঙ্গু নিয়ে কাজ করছি। এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ভারতের চেয়েও আমরা ভালো অবস্থানে আছি। এখন পর্যন্ত আমাদের ২৪ হাজার সংক্রমণ হয়েছে। উপমহাদেশে মশা বেড়েছে চলতি জুলাই মাসে।

বুধবার (১৯ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ডেঙ্গু ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গৃহীত কার্যক্রম পর্যালোচনার লক্ষ্যে’ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন তথ্য দিয়েছেন।

ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে এই মাসেই ৮০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ কি না- এমন প্রশ্নের উত্তরে তাজুল ইসলাম বলেন, ব্যর্থতার কথা বললে তুলনামূলকভাবে বলতে হবে। যেমন একজন মানুষ কতটুকু জ্ঞানী, তা আরেকজন মানুষের সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যাবে। তবে আমি সফলতার দাবি করি না। সফলতার দাবি তখনই করব, যখন একজন মানুষও আক্রান্ত না হবেন, একজনেরও মৃত্যু না হবে।

আর ব্যর্থতার তো কারণ নেই। ব্যর্থ হলে তো এখন দেশে ২০-৩০ লাখ রোগী হয়ে যেতেন। আমরা সবাই কাজ করছি। এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড ও ভারতের চেয়েও আমরা ভালো অবস্থানে আছি। তিনি বলেন, জুন মাসে মালয়েশিয়ায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার। আমি তাহলে কী করে আমাদের লোকজনকে ব্যর্থ বলব।

বারবার সতর্ক করার পরেও যদি কোনো নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, তাহলে সেখানকার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, যদি কোনো নির্মাণাধীন ভবনে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, প্রথমবার সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তা পরিষ্কার করে দিয়ে আসা হবে। দ্বিতীয়বারও একই অবস্থা হলে জরিমানা করা হবে। এরপরেও তারা যদি পরিষ্কার না করে এবং বারবার এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় তাহলে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

ডেঙ্গু চিকিৎসায় ডেডিকেট হাসপাতাল করা যায় কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, উত্তর সিটি করপোরেশনের যে হাসপাতাল রয়েছে, সেটি নতুন করে খুলে দিতে বলেছি। সেখানে ৮০০-৯০০ রোগীর চিকিৎসা করা সম্ভব। গতবারও যখন ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গিয়েছিল, তখন সেটি খুলে দেওয়া হয়েছিল। আমি সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি, অর্ধশতাধিক রোগী হয়নি।

বৈঠকে মন্ত্রী আরও বলেন, জব্দ করা যানবাহনসহ বিভিন্ন ধরনের টায়ার-টিউবে স্প্রে করার ব্যবস্থা করতে হবে। এরই মধ্যে স্কুলগুলোতে সভা করা হয়েছে। স্কুলের আঙিনা পরিষ্কার করতে হবে। নইলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যব্যস্থা নিতে হবে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতিতে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করা হবে কি না- এমন প্রশ্নেরন জবাবে তিনি বলেন, দুর্যোগ তখনই ঘোষণা করা হবে, যখন মনে করব, আমরা আর পারছি না। আমরা নিয়ন্ত্রণ করছি না বা কাজ করার মতো যোগ্যতা আমাদের নেই, বিষয়টা তো এমন নয়। জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা তখনই করা হবে, যখন দেশে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটে যাবে। যেমন, ৫০ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছে গেছে কিংবা ৫০ লাখ লোক মারা গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত