গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ফের একটি ওয়াইল্ডবিস্ট ও একটি ম্যাকাও পাখি মারা গেছে। গত ৭ জুলাই ওয়াইল্ডবিস্ট ও ৮ জুলাই হায়াসিন্থ ম্যাকাও পাখিটি মারা যায়। তবে পার্কের প্রকল্প পরিচালক ইমরান আহমেদ গতকাল শুক্রবার প্রাণী দুটির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। এদিকে এদিন পার্কে এসেছে কিশোরগঞ্জের গাজীপুরের করিমগঞ্জ ও ইটনা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম উত্তর চামটা থেকে উদ্ধার করা বিলুপ্ত প্রায় মুখপোড়া হনুমান।
পার্ক সূত্রে জানা গেছে, এক বছরের বেশি সময় ধরে একটি ব্লু-ওয়াইল্ডবিস্ট অসুস্থ ছিল। গত ৭ জুলাই প্রাপ্তবয়স্ক ওয়াইল্ডবিস্টটি মৃত অবস্থায় পড়েছিল।
অন্যদিকে চলতি বছরের মে মাসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনাপত্তিপত্র ছাড়া আনা হায়াসিন্থ ম্যাকাও পাখি জব্দ করা হয়। পার্কের কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় গত ৮ জুলাই হায়াসিন্থ ম্যাকাও পাখিটি মারা যায়। বেলজিয়াম থেকে একটি ফ্লাইটে ৬৯টি বিদেশি পাখির সঙ্গে এ ম্যাকাও পাখিগুলো অবৈধভাবে আমদানি করেছিল বাংলাদেশের থ্রি টি ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রাণী বিপণন প্রতিষ্ঠান।
পার্কের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ইমরান আহমেদ জানান, একটি ম্যাকাও পাখি ও একটি ব্লু-ওয়াইল্ডবিস্ট মারা গেছে। এ বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী থানায় জিডি (সাধারণ ডায়রি) করা হয়েছে।
এদিকে সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ ও ইটনা দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম উত্তর চামটা ও চন্দ্রপুর এ দুটি গ্রামে বিচরণ করা একটি মুখপোড়া হনুমানকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কে আনা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৫টায় দিকে মুখপোড়া হনুমানটি হস্তান্তর করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মুখপোড়া হনুমানটি পার্কে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। আমাদের পার্কের সহকর্মী সুমন এটি ট্রাংকুলাইজ করেছেন। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের দলের সঙ্গে আমাদের লোকজন কাজ করেছেন।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ ঢাকার বন্যপ্রাণী পরিদর্শক নিগার সুলতানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা সেখানে যাই। ট্রাংকুলাইজ গানের মাধ্যমে হনুমানটিকে নিস্তেজ করা হয়। পরে উদ্ধার করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়েছে।
