স্কুলের সামনে ময়লা-আবর্জনা, দুর্গন্ধে ক্লাসে বসে থাকতে পারি না। আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছে। ময়লাগুলো এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া দরকার। ক্ষোভের সঙ্গে কথাগুলো বলছিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরের রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কের পাশে আখাউড়া পৌরসভার ভাগাড় থাকায় বছরের পর বছর সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ভাগাড়টি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।
তবে এ বিষয়ে আখাউড়া পৌরসভার মেয়র তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ‘ময়লা ফেলার জন্য আমরা জায়গা খুঁজছি। জায়গা না পাওয়া পর্যন্ত এখানেই বর্জ্য ফেলা হবে। পৌরসভা থেকে ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হবে।’
আখাউড়া-চান্দুরা আঞ্চলিক সড়কের পৌরশহরের রেলওয়ে হরিজন কলোনির পাশে ভাগাড় রয়েছে। এখান থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়ায়। এই ভাগাড় থেকে রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় একশ ফুট। এ সড়ক দিয়ে রেলওয়ে স্কুলসহ পৌরশহরের অন্তত ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও পথচারীরা চলাচল করেন। দুর্গন্ধের কারণে নাক চেপে পথ চলতে হয় তাদের। দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে বসে
থাকতে পারেন না শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রায় দেড় মাস আগে আখাউড়া পৌরসভার মেয়রকে চিঠি দিয়ে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছে।
এছাড়া আখাউড়া রেলস্টেশন এবং আজমপুর রেলস্টেশন হয়ে প্রতিদিন কয়েকশ ট্রেনযাত্রী এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন।
মাহমুদুল হাসান সোহাগ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে স্কুলের সামনে রাস্তার পাশে ময়লার দুর্গন্ধে মানুষের কষ্ট চরম পর্যায়ে চলে গেছে।
আখাউড়া রেলওয়ে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে ছাত্রছাত্রীরা শ্রেণিকক্ষে বসে থাকতে পারে না। দুর্গন্ধে ক্লাস করতে অসুবিধা হয়। ছাত্রছাত্রীরা প্রায়ই ২/৩টি ক্লাসের পর বিদ্যালয় থেকে ছুটি দেওয়ার আবেদন করে। এ অবস্থায় গত ৯ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত স্কুল ছুটি দিতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার আগে পৌরসভার মেয়রকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবগত করেছিলাম। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং শিক্ষা কর্মকর্তাকেও অবগত করেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ দেখছি না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হিমেল খান বলেন, আমাদের যত ধরনের সংক্রামক রোগ হয় এগুলোর উৎপত্তিস্থল হলো ময়লা-আবর্জনা। এতে পেটের পীড়া, আমাশয়, ডায়রিয়া, টাইফয়েড হতে পারে। ছাত্রছাত্রীদের শ^াসকষ্টজনিত সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া ময়লা-আবর্জনা থেকে বায়ুদূষণ হয়।
জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংগ্যজাই মারমা বলেন, এটি পৌরসভার দায়িত্ব। আমি পৌর মেয়রের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি আশ^স্ত করেছেন।
