নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও বরাদ্দের পুরো চাল পায়নি জেলেরা

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩, ০১:৫৫ এএম

সাগরে মাছ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে গত ২৩ জুলাই। নিষেধাজ্ঞার ১৮ দিন পার হলেও বরাদ্দের সব চাল পায়নি বরগুনার তালতলীর জেলে পরিবারগুলো। যা নিয়ে জেলেদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মৎস্য বিভাগ বলছে, বরাদ্দের চিঠি হাতে পেয়েছি ও চেয়ারম্যানদের ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর সাগরে সব ধরনের মাছ শিকারে ৬৫ দিনের (২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত) নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার। এ উপজেলায় সরকারিভাবে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ৮ হাজার ২০০ জন। এর ভেতরে সমুদ্রগামী জেলে ৫ হাজার ২০০। সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য ভিজিএফের মাধ্যমে ৮৬ কেজি করে চাল বরাদ্দ করে সরকার। প্রথম কিস্তিতে ৫৬ কেজি চাল পেলেও বাকি ৩০ কেজি চাল এখনো দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। এই ৬৫ দিনে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া অপ্রতুল খাদ্য সহায়তা নিয়েও রয়েছে জেলেদের ক্ষোভ। এ জন্য নগদ অর্থ দেওয়ার দাবি জেলেদের।

এদিকে, অবরোধ শেষ হলেও সাগরে উত্তাল এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এখনো পুরোদমে মাছ শিকার করতে পারছেন না উপকূলীয় পাঁচ শতাধিক জেলে। সাগরে গেলেও অল্প সময়ের মধ্যে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ফলে মাছ না পেয়ে তারা হতাশা প্রকাশ করেন। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি বরাদ্দের বাকি চালগুলো পেলেও কোনোরকম দিনযাপন করতে পারতেন বলে দাবি জেলেদের।

ফকিরহাট জেলেপল্লীর আবু সালে বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় দুদিনের ভেতরেই ফিরে আসতে হয়েছে। অবরোধের সব চাল এখনো পাইনি। এতে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

নিদ্রা জেলেপল্লীর মো. পনু বলেন, দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলায় নদীতে গিয়ে মাছ ধরতে পারি না। এজন্য প্রথমবার ৫৬ কেজি চাল কাগজে পেয়েছি। সঠিকভাবে ৫৬ কেজি পাইনি। তবে বাকি ৩০ কেজি চাল পেলে পরিবার নিয়ে একটু ভালো চলতে পারতাম। এখনো কেন বাকি চাল দিচ্ছে না? এর থেকে আমাদের নগদ টাকা দেওয়ার দাবি করি।

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাচ্চু মিয়া বলেন, এখনো ডিও লেটার পাইনি। ডিও লেটার পেলে দ্রুত চাল বিতরণ করা হবে।

পঁচাকোড়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, এরই মধ্যে আমরা জেলেদের ৫৬ কেজি চাল বিতরণ করেছি। তবে চালগুলো একসঙ্গে দিলে ভালো হয়। ডিও লেটার পেয়েছি কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বিতরণ করা হয়নি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুবুল আলম বলেন, চাল বিতরণ করার জন্য সব চেয়ারম্যানকে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তারা সেগুলো বিতরণ করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, চালের পরিবর্তে নগদ টাকার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত