বর্তমানে ক্ষমতায় যারা আছে এবং যারা শুধুমাত্র ক্ষমতায় যেতে চায় কেউই জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম। তিনি বলেন, তারা শুধুমাত্র ক্ষমতার রাজনীতি কায়েম করতে বিদেশি শক্তির ওপর ভর করে মসনদে বসতে চায়। এজন্যই বিদেশিদের দুয়ারে দুয়ারে ধরনা দেওয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণœ করে এ রকম কোনো হস্তক্ষেপ বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। যারা এর মদদ জোগাবে তাদেরও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত জনসভায় নেতারা এসব কথা বলেন।
শাহ আলম বলেন, বিনা ভোটে ঘোষিত এ অগণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করে, সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের স্বার্থে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করে মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। শাসক গোষ্ঠী এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে যে, এ সরকারসহ কোনো দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এই মুহূর্তে দল নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে, ওই সরকারের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা শুরু করতে হবে। আমেরিকা, ভারতের কথায় নির্বাচন হবে, নাকি দেশের জনগণের কথায় নির্বাচন হবে? জনমত উপেক্ষা করে বিদেশি শক্তির আধিপত্য ঘটালে পরিণতি ভালো হবে না।
সমাবেশে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া এই সরকার সাধারণ জনগণ, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। উপরন্তু একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। অনিয়ন্ত্রিত বাজার সিন্ডিকেট করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোয় মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দুর্নীতি-লুটপাট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সরকারের সর্বত্র আকণ্ঠ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেই বরং একের পর এক বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে।
সমাবেশ থেকে জেলা-উপজেলায় জনসভা এবং সেপ্টেম্বরে ‘ভোট ও ভাতের’ দাবিতে গণজাগরণ অভিযানের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন দলটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, কন্ট্রোল কমিশনের চেয়ারম্যান শ্রমিক নেতা মাহবুব আলম, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. সাজেদুল হক রুবেল, হাফিজুল ইসলাম প্রমুখ।
