টাকার জন্য শিক্ষককে হত্যা চাপা দিতে চিরকুট নাটক!

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩, ০২:৫০ এএম

রাজধানীর অদূরে সাভারে গোলাম কিবরিয়া নামে এক শিক্ষককে হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে র‌্যাব। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সংস্থাটি।

র‌্যাব বলেছে, শিক্ষকের বাসায় থাকা টাকা লুট করে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চিরকুটে ‘সমকামী’ লিখে ফেলে রাখে। আর সেই চিরকুটের সূত্র ধরেই হত্যাকারীদের খুঁজে পায় র‌্যাব। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ইমন খান (২৩)। বাকি দুজন হলো মো. সাগর (২২) ও মো. ছাদেক গাজী (২২)।

গত ২০ আগস্ট বিকেলে সাভার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে স্কুলশিক্ষক গোলাম কিবরিয়ার হাত-পা বাঁধা এবং গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় তার লাশের পাশে ‘এই ব্যক্তি সমকামী করে পুলিশ ভাই, আমরা তাই মেরে ফেলেছি, ভাই ও অবৈধ কাজ করে... আমরা ইসলামের সৈনিক’ লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে সাভার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মিডিয়া বিভাগের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, নিহত শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া জমি কেনাবেচা করায় তার কাছে সবসময় বেশি টাকা থাকত।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাগর একজন অটোরিকশাচালক। তার সঙ্গে গোলাম কিবরিয়ার দুই বছর আগে পরিচয় হয়। সাগরই তার সঙ্গে ইমনের পরিচয় করিয়ে দেয়। পরিচয়ের সূত্রে ইমন ও সাগর শিক্ষক কিবরিয়ার বাসায় মাঝেমধ্যে যাওয়া-আসা করত। গত ১৯ আগস্ট ইমন সেই শিক্ষকের সঙ্গে দেখা করতে যায়। ছাদেকও তার সঙ্গে যায়। সাগর অটোরিকশা নিয়ে শিক্ষকের বাসার আশপাশে থাকে। শিক্ষকের সঙ্গে গল্প-গুজব করা অবস্থায় বিদ্যুৎ চলে গেলে ছাদেক তার গলা এবং ইমন মুখ চেপে ধরে। এরপর গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর বিছানার নিচ থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোন লুট করে। যাওয়ার সময় ওই চিরকুট লিখে শিক্ষকের লাশের পাশে রেখে যায় তারা। এ টাকার মধ্যে অটোচালক সাগরকে ৫০ হাজার এবং বাকি টাকা ইমন ও ছাদেক ভাগ করে নেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত