পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৩, ০৩:০৫ এএম

সাভারের ভাকুর্তা ইউনিয়নে জমিসংক্রান্ত বিরোদের জেরে পরিকল্পিতভাবে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে এক কিশোরীর হাত-পা বেঁধে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ধর্ষণকারীরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইলফোন লুট করে নিয়ে গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটির দাবি, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্যের সঙ্গে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মঙ্গলবার রাতে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। এর আগে গত সোমবার রাতে ভাকুর্তা ইউনিয়নের লুটের চর উত্তরপাড়া এলাকায় এ ধর্ষণ ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে।

দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার কিশোরী স্থানীয় একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি তার অসুস্থ বাবা-মাকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই জানান, গত সোমবার রাতে খাবার খাওয়ার পর তিনি বারান্দায় বেরিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলার একপর্যায়ে অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। এরপর শোনেন, তার বাবাও অসুস্থবোধ করছেন। পরে তার মাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় দেখেন, ছোট বোন তার কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েছে। একপর্যায়ে তিনিও গভীর ঘুমে তলিয়ে যান। সকালে প্রতিবেশীরা তাকে ডেকে তোলেন। সকালে বোনের কাছ থেকে জানতে পারেন রাতে গ্রিল কেটে তিনজন ঘরে ঢুকেছিল। তারা তার কিশোরী বোনের হাত-পা বেঁধে মুখে গামছা গুঁজে ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণকারীরা আলমারি থেকে ২০ হাজার টাকা, আমার মানিব্যাগ থেকে পাঁচ হাজার টাকাসহ প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার আর দুটি মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে।

কিশোরীর ভাই অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশে সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুল্লাহর জমি রয়েছে। তিনি আমাদের জমির বেশ কিছু অংশ দখল করে নেন। আমরা এর প্রতিবাদ করি। এ বিষয়ে মামলাও করা হয়। এরপর থেকে তিনি এবং তার ছেলে বিভিন্ন সময়ে আমাদের হত্যার হুমকি দেন। মা-বাবাকে বিভিন্ন সময়ে অশ্লীল ভাষায় গালাগালও করেছেন। স্থানীয়ভাবে তারা ক্ষমতাশালী হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। ওরাই আমার বোনের জীবনটা নষ্ট করে দিল। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বোনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। ওর অবস্থা বেশি ভালো না। সে শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে, কিছুই বলছে না। ওরা আমার বোনকে নির্দয়ভাবে হাত-পা বেঁধে মুখে গামছা দিয়ে ধর্ষণ করেছে। আমার আব্বু-আম্মুকেও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছি। আমার বোনের সঙ্গে যারা এমন করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুল্লাহ হাবীব বলেন, ‘অযথাই আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। তাদের কোনো জমি দখল করা হয়নি। একাধিকবার জমি মেপে বিষয়টির সমাধানও করা হয়েছে। এখন আমাকে, আমার ছেলে ও দুই ভাইয়ের নামে ধর্ষণের অভিযোগ দিচ্ছে।’

সাভার মডেল থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত