ঝুঁকি নিয়ে নির্মাণকাজ প্রাণ গেল ২ শ্রমিকের

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩, ০২:৪৫ এএম

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে কাজ করতে গিয়ে দড়ি ছিঁড়ে নিচে পড়ে নিহত হয়েছেন দুই শ্রমিক। গতকাল শুক্রবার সকালের এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন।

নিহত শ্রমিকরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের চর বাসুদেবপুর বাগানপাড়া এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে তুহিন (২৫) ও রাজশাহীর গোদাগাড়ীর বিগ্রাম ঘণ্টি এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে আসাদুল আলী (২৭)। আহত শ্রমিক হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের প-িতপাড়ার চর অনুপনগর এলাকার নয়ন আলীর ছেলে রবিউল আওয়াল।

অভিযোগ উঠেছে, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বহুতল ভবনটিতে কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। দফায় দফায় দুর্ঘটনার পরও সেইফটি কোড অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

গতকালের দুর্ঘটনার বিষয়ে পাবনা সদর থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ তলা নির্মাণাধীন শেখ রাসেল ছাত্র হলে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে রশি ছিঁড়ে নিচে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যান। গুরুতর অবস্থায় দুজনকে সহকর্মীরা উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরেকজন মারা যান। এর আগেও পাবিপ্রবির নির্মাণকাজে একাধিক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবন নির্মাণের কাজে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বহুতল ভবন নির্মাণে যে সেফটি কোড আছে তার অধিকাংশই মানছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সেফটি নেট দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ ভবনেই নেটের ব্যবহার হচ্ছে না। শাটারিং করার সময় খুঁটিগুলো ধাতব হওয়ার কথা থাকলেও অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাঁশের ওপর হলুদ রঙ করে সেগুলোকেই ধাতব বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষও এসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে।

জেলা পুলিশ জানায়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন কয়েকটি ১০-১২ তলা ভবনে কাজ করছেন শত শত শ্রমিক। এসব শ্রমিকের নিরাপত্তায় নেই কোনো ব্যবস্থা। এর আগেও কাজ করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর হাফিজুর রহমান নামে এক নির্মাণশ্রমিক নির্মাণাধীন অ্যাকাডেমিক ভবন থেকে পড়ে মারা যান। ওই বছরই ২৫ সেপ্টেম্বর নুর আলম নামে আরেক নির্মাণশ্রমিক একইভাবে নিহত হন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিয়ে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরের সহযোগিতায় দুর্ঘটনার ঘটনাগুলো ধামাচাপা দিয়ে আসছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অনৈতিক লেনদেনের সম্পর্ক থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয় না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এনএন হুদা কনস্ট্রাকশনের প্রকল্প তত্ত্বাবধায়ক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘শ্রমিকদের মৃত্যুর বিষয়ে আমরা মর্মাহত, তবে আমরা নিরাপত্তায় সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। সম্ভবত শ্রমিকরা রশি ঠিকমতো না লাগানোয় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তারপরও আমরা শ্রমিকদের পরিবারকে সহায়তা করব।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদের ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জিএম আজিজুর রহমানের মোবাইল ফোনে কয়েকবার কল করেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখতিয়ার নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক বা প্রকৌশল দপ্তরকে বিষয়টি দেখভাল করার জন্য আগেও বলা হয়েছে। বারবার এমন ঘটনা সবার জন্যই দুঃখজনক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত