দেশের স্বাস্থ্য খাতে সাফল্যের এক নতুন পালক যোগ করল ইউনাইটেড হসপিটাল। ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের স্বনামধন্য এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘জয়েন্ট কমিশন ইন্টারন্যাশনাল’ (জেসিআই) স্বীকৃতি অর্জন করেছে। আর এই অর্জনটি আরও গুরুত্ব বহন করছে কারণ প্রথমবারের মতো জেসিআই সার্ভেতে অংশগ্রহণ করে নির্ধারিত ১ হাজার ২৭১টি মান ও মাপকাঠির প্রত্যেকটিতে ইতিবাচক ফলাফল (জিরো নট মেট) অর্জন করেছে ইউনাইটেড হসপিটাল, যা শুধু দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও বিরল। আর তাই ইউনাইটেড হসপিটাল অঙ্গীকার করে ‘স্বাস্থ্যসেবায় জিরো কম্প্রোমাইজ’।
জেসিআই হচ্ছে এমন একটি স্বীকৃতি যেটিকে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবার স্বর্ণমান হিসেবে ধরা হয়। এই স্বীকৃতিটি সেই হাসপাতালগুলোকেই দেওয়া হয়, যারা রোগীদের জন্য আপসহীন স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে। এই মর্যাদা অর্জন করতে হাসপাতালগুলোকে হাজারেরও বেশি কঠোর মান বজায় রাখতে হয়। জেসিআই স্বীকৃতি একটি হাসপাতালের সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করার প্রতিফলন। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই স্বীকৃতি অর্জন একদিকে যেমন চ্যালেঞ্জিং, অন্যদিকে রোগীর নিরবচ্ছিন্ন সেবা, নিরাপদ চিকিৎসা প্রদান করাটাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে প্রথমসারির স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইউনাইটেড হসপিটালের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রোগীর সুরক্ষা ও যত্নের গুণমান রক্ষা করা। জেসিআই স্বীকৃতি প্রমাণ করে ইউনাইটেড হসপিটাল বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। তারা এমন একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করছে, যা তাদের রোগী ও কর্মীদের জন্য ঝুঁকি কমিয়ে আনছে। জেসিআই স্বীকৃতি অর্জন করতে গিয়ে ইউনাইটেড হসপিটাল দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের ধারায় অবদান ও পরিবর্তন এনেছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার মান রক্ষার ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত তারা স্থাপন করেছে।
ইউনাইটেড হসপিটালের জেসিআই অর্জনের নেপথ্যের যাত্রা অনেক দিন ধরেই চলমান, যেটি এই হসপিটালের ক্রমাগত উন্নতির সাক্ষীস্বরূপ। হাসপাতালটি কৌশলগতভাবে অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছে। যে কারণে সেবার মান আরও উন্নত, সম্প্রসারিত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। হাসপাতালটি সেবার মান উন্নীতকরণের প্রচেষ্টায় সেবার প্রতিটি ধাপে আমূল পরিবর্তন এনেছে। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউনাইটেড হসপিটালে প্রায় ছয় লাখ মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে আর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল প্রফেশনাল এবং সেবাদাতার হাতেই নিশ্চিত হচ্ছে এই জেসিআই মানের স্বাস্থ্যসেবা।
ইউনাইটেড হসপিটালের ভিশন হচ্ছে দেশের সব জায়গায় সর্বস্তরের মানুষের জন্য, তাদের সাধ্যের মধ্যে উন্নতমানের স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা। সর্বোপরি দেশের চিকিৎসা খাতকে সমৃদ্ধ করা। যে কথাই বারবার ব্যক্ত করেছেন ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনউদ্দিন হাসান রশীদ ও ইউনাইটেড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান।
আমরা যদি রোগীদের দিক থেকে দেখি, কীভাবে এই স্বীকৃতিটি উচ্চমানের সেবা নিশ্চিত করছে, আমাদের কিছু বিষয়ে নজর দিতে হবে যেগুলো সরাসরি রোগীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। হসপিটালে প্রবেশ থেকে শুরু করে চিকিৎসা শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে রোগীকে দেওয়া সেবাগুলোর টাইম ট্র্যাক নিশ্চিত করে রোগীর সঠিক চিকিৎসা। হসপিটালে ভর্তির সময় ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য ফল প্রিভেনশন ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়, সঙ্গে নিশ্চিত করা হয় রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় সাপোর্ট সার্ভিস। হুইলচেয়ারে বসা রোগীদের জন্য বিশেষ প্রবেশ থেকে শুরু করে বাথরুমে হ্যান্ডেল এবং রয়েছে হুইলচেয়ার নিয়ে প্রবেশ করার মতো বাথরুমও। ইউনাইটেড হসপিটালে রোগীদের পড়ে যাওয়া ঠেকাতে ও প্রবেশের পর থেকে রোগীর যতœ নিশ্চিত করতে দক্ষ নার্সিংব্যবস্থা রয়েছে। তারা নিয়মিতভাবে রোগীর কক্ষ এবং বাথরুমের মেঝেতে লক্ষ রাখে, যাতে সেগুলো পরিষ্কার এবং শুকনো থাকে।
হসপিটালে ভর্তি হওয়ার পর একজন রোগী ২৪ ঘণ্টা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকে। আর রোগী যদি ইমার্জেন্সিতে আসে সে ক্ষেত্রে জেসিআইয়ের নিয়ম অনুযায়ী ১৫ মিনিটের মধ্যে তার প্রাথমিক অ্যাসেসমেন্ট নিশ্চিত করা হয়। ইমার্জেন্সিতে রোগীর দ্রুত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চসংখ্যক ক্রিটিক্যাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ উপস্থিত থাকেন। ইউনাইটেড হসপিটাল সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনার পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার মাধ্যমে রোগীদের সুস্থ করে তোলার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
হসপিটালে ভর্তি প্রতিটি রোগী দিনে সাতবার খাবার পেয়ে থাকে এবং সঠিক চিকিৎসা প্রটোকল নিশ্চিত করার জন্য একজন সার্টিফায়েড ডায়েটিশিয়ানের চার্ট অনুযায়ী খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করা হয়।
ইউনাইটেড হসপিটালের ডাক্তারের দেওয়া সব ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের ব্র্যান্ড নামের পরিবর্তে জেনেরিক নাম ব্যবহার করা হয়, যা বিশ্বব্যাপী প্রচলিত। হসপিটালের ফার্মেসি থেকে ওষুধ সরবরাহের সময় একজন ‘এ’ গ্রেড ফার্মাসিস্ট ওষুধের ডোজ, সুবিধা-অসুবিধা ও সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে অবগত করেন। ওষুধের গুণগতমান ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে এই মডেল ফার্মেসিতে প্রত্যেকটি ওষুধ কোল্ড চেইন মেনে সংরক্ষণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। ওষুধের প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে সংগ্রহ থেকে শুরু করে গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যেকটি স্তরে সঠিকভাবে এই চেইন মেনে চলা হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে তা পরীক্ষাও করা হয়। হসপিটালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম মানা হয়। এ ছাড়া ওষুধের আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত ধারা অনুযায়ী ডোজেজ লেবেলিং করা হয়, পাশাপাশি যেসব ডোজে উচ্চ সতর্কতা মানা জরুরি সেগুলোতে বিশেষ লেবেলিং ট্যাগ লাগানো হয়। এখানে জরুরি ওষুধের ১০০% সরবরাহ থাকে এবং ওষুধ সংরক্ষণের জন্য মানসম্পন্ন ফ্রিজের ব্যবস্থা রয়েছে।
ইউনাইটেড হসপিটাল প্রতিটি রোগীর ক্ষেত্রেই একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মেডিকেল রেকর্ড সংরক্ষণ করে। যদি কোনো রোগীর কাছ থেকে তথ্য হারিয়ে যায়, তিনি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করার পর তার মেডিকেল রেকর্ড পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
ইউনাইটেড হসপিটালে একটি সেন্ট্রাল স্টেরাইল সাপ্লাই ডিপার্টমেন্ট (সিএসএসডি) রয়েছে, হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের সময় যাতে কোনো ধরনের সংক্রমণ না হয়, সেদিকে লক্ষ রেখে রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এই ইউনিটটি স্টেরিলাইজেশন ও হসপিটালের সব জায়গায় যেকোনো সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ জিনিসপত্র ফেলে দেওয়ার জন্য ইউনাইটেড হসপিটালে নিয়মিত অডিট হয়ে থাকে।
কীভাবে একটি জেসিআই স্বীকৃত হাসপাতাল অন্য যেকোনো হাসপাতালের তুলনায় সেবার মানের দিক থেকে অনেক এগিয়ে, চলুন সে সম্পর্কে জেনে নিই। এখানে জেসিআই স্বীকৃত হাসপাতালের মাত্রাগুলো কী কী এবং আপনি কীভাবে বুঝতে পারবেন যে আপনি সর্বোচ্চ সেবা পাবেন সে সম্বন্ধে জানতে পারবেন। যে তথ্যগুলো আমরা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি, সেগুলো ছাড়াও এখানে আরও কিছু বিষয় রয়েছে, যেসব ক্ষেত্রে ইউনাইটেড হসপিটাল তাদের সেবার মান উন্নত করেছে।
ইউনাইটেড হসপিটাল জেসিআই মান অনুযায়ী মৃত্যুর হার কমাতে ও রোগীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ইউনাইটেড হসপিটালে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার শূন্য শতাংশ, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
একজন রোগীর হাসপাতালে অবস্থান একটি নির্দিষ্ট সময়কালের বেশি হওয়া উচিত নয়। বৈশ্বিক মান অনুযায়ী এটি পাঁচ দিন, তবে এটি প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তিত হয়। ইউনাইটেড হসপিটাল দ্রুত এবং কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিতের মাধ্যমে রোগীর সুবিধার্থে হসপিটালে তাদের অবস্থানের সময় যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত রাখার চেষ্টা করে।
জেসিআই মান অনুযায়ী প্রতিটি রোগীর আগমনের সময় থেকে খুব কম সময়ের মধ্যে (সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট) একজন নার্স এবং পরে একজন ডাক্তারের দ্বারা রোগীর মূল্যায়ন খুব যতœসহকারে করা উচিত। ইউনাইটেড হসপিটাল ধারাবাহিকভাবে এই পদ্ধতি খুব কঠোরভাবে অনুসরণ করে আসছে।
ইউনাইটেড হসপিটাল সঠিক পোস্ট সার্জিক্যাল চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে শতভাগ সাফল্য অর্জন করেছে। সঠিক, নির্ভুল ও সংক্রমণমুক্ত অস্ত্রোপচার নিশ্চিতের মাধ্যমে রোগীদের আবার ফেরত আসা প্রতিরোধ করা হয়। প্রায় শতভাগ অস্ত্রোপচার সঠিক প্রস্তুতির সঙ্গে টাইম-আউট (অস্ত্রোপচারে টাইম-আউট হলো একটি সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি, যা অপারেশন শুরু করার আগে সঠিক রোগী, পদ্ধতি এবং স্থান নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি ভুল সাইট, ভুল পদ্ধতি এবং ভুল ব্যক্তির অস্ত্রোপচার প্রতিরোধের জন্য একটি নিরাপত্তাব্যবস্থা) পদ্ধতি মেনে ও বৈশ্বিক মান অনুসরণ করে করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে এবং পরে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ইউনাইটেড হসপিটাল কারও ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সঠিক রোগ নির্ণয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষার মান নিশ্চিতকরণের একটি চাবিকাঠি।
ইউনাইটেড হসপিটালের ওঝঙ স্বীকৃত ল্যাবরেটরি রয়েছে, যেখান থেকে সার্বক্ষণিক সেবা পাওয়া যায়। ২০১৪ সাল থেকে টানা আইএসও স্বীকৃতি পেয়ে আসছে এই ল্যাব, যেটি নিশ্চিত করে এই হসপিটালের রিপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা। হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে একসঙ্গে ২২ জনকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্বনামধন্য চিকিৎসকরা। জরুরি প্রয়োজনে এখানে মাত্র তিন ঘণ্টায় ব্লাড টেস্ট করা সম্ভব।
জেসিআই স্বীকৃতি ইউনাইটেড হসপিটালে রোগীদের সেবাদানের জন্য উচ্চমান ও নিরাপদ যত্ন প্রদানে তাদের প্রতিশ্রুতির একটি প্রমাণ হিসেবে দেখা যায়। হাসপাতালটি ক্রমাগত সেবার মান উন্নত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। জেসিআই স্বীকৃতি তার কৃতিত্বের একটি স্মারক। যেসব স্বাস্থ্যসেবার জন্য মানুষ বিদেশে যাচ্ছে, তাদের জন্য বিকল্প হতে পারে ইউনাইটেড হাসপাতাল।
