পঞ্চগড় বাজারের চালহাটিতে আব্দুস সাত্তার নামের এক ব্যবসায়ীর গুদামে ২০ মেট্রিক টন সরকারি চালের বস্তা মজুদ থাকার খবর পেয়ে গতকাল বুধবার সকালে পুলিশ ওই দোকানটি ঘিরে রাখে। এর মধ্যেই জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান শেখ, পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা, পঞ্চগড় চেম্বারের ট্রেজারার আব্দুস সামাদ পুলক ও পঞ্চগড় সদর খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আরেফিন ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু তারা ব্যবসায়ীর দেওয়া কিছু কাগজপত্র দেখে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই দুই ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অপরদিকে, ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ছবি তোলার সময় ইউটিউবভিত্তিক একটি চ্যানেলের পঞ্চগড় প্রতিনিধির ওপর চড়াও হন আব্দুস সাত্তারের চাচা শাহীনসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী। এ সময় তারা ওই গণমাধ্যমকর্মীকে লাঞ্ছিত করলেও নীরব ছিলেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা।
ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জানান, নাটোরের গুরুদাসপুরের গৌতম ট্রেডার্স থেকে ২০ মেট্রিক টন চাল কিনেছেন তিনি। চালগুলো টিআর কাবিখার চাল স্বীকার করে তিনি জানান, গুদামে খাদ্য বিভাগের লোগো ও লেখাসংবলিত প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি করে ৬৬৭টি বস্তা চাল রয়েছে।
তবে নাটোরের গৌতম ট্রেডার্সের সঙ্গে কথা বলতে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আরেফিন বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি চালগুলো সরকারি। টিআর, জিআর ও কাবিখার চাল।’
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, ‘কাগজপত্র যাচাই করে দেখেছি, সেগুলো ঠিক আছে। আপনারা আপনাদের মতো যাচাই করে দেখেন।’
পঞ্চগড় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল হক খন্দকার বলেন, ‘আমাদের গুদাম থেকে কোনো চাল বেরিয়ে গেলে আমাদের আর কোনো দায়দায়িত্ব নেই। কোনো গুদামে সরকারি বস্তায় চাল পাওয়া গেলেও আমাদের দেখার কোনো বিষয় নেই।’
