নওগাঁর আত্রাইয়ে সাহেবগঞ্জে ২০০৪ সালে সহকর্মী রতন মিয়াকে হত্যা করে আব্দুল হামিদ নামে এক ব্যক্তি। এরপর পালিয়ে গিয়ে নিজের নাম বদলে ফেলেন। নাম-পরিচয় পরিবর্তন করে নরসিংদীতে বিয়ে করেন। হত্যাকা-ে মামলা হয়। সেই মামলায় ২০১০ সালের ১৯ মে আব্দুল হামিদের মৃত্যুদ-ের রায় ঘোষণা দেয় আদালত। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ২০ বছর আত্মগোপনে থাকার পর গত বৃহস্পতিবার সাভারে অভিযান চালিয়ে হামিদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব-৪ সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান।
র্যাব জানায়, আব্দুল হামিদ ২০০৪ সালের ১৬ মে নওগাঁর আত্রাই থানার সাহেবগঞ্জ এলাকার নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে সহকর্মী রতনকে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রতন। খবর পেয়ে আত্রাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আব্দুল হামিদ ও তার অন্য সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে সুকৌশলে পালিয়ে যায়। পরে নিহতের ছোট ভাই রিপন মিয়া বাদী হয়ে নওগাঁর আত্রাই থানায় আসামির বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পর থেকেই হত্যাকারী আব্দুল হামিদ আত্মগোপন করে। দীর্ঘদিন আসামির অনুপস্থিতিতে নওগাঁর অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলার বিচারকাজ চালিয়ে যায়। দীর্ঘ বিচার শেষে বিজ্ঞ আদালত ২০১০ সালের ১৯ মে আব্দুল হামিদের বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলায় তাকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করার রায় ঘোষণা করে।
র্যাব-৪ সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার রাকিব মাহমুদ খান বলেন, গ্রেপ্তার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার পর থেকে সে পালিয়ে প্রথমে রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, নরসিংদী পরে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলায় ও সর্বশেষ ঢাকার সাভার এলাকায় আত্মগোপন করে নিজের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা পরিবর্তন করে বসবাস করে আসছিল। এর মধ্যে গ্রেপ্তার আসামি নরসিংদী জেলার রায়পুর থানা এলাকায় পরিচয় গোপন করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
