সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও আবদুল মাবুদ নামে এক বন্দিকে মুক্তি না দেয়ায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বন্দির স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া। তার (রাজিয়া) অভিযোগ, দুই মাস আগেই তার স্বামীর সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষ বন্দি মাবুদকে মুক্তি দিচ্ছে না। কারাবন্দি মাবুদ নগরের ডবলমুরিং থানাধীন পূর্ব মাদারবাড়ির বাসিন্দা। তবে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, জেল কোড ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মাবুদের সাজার মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি।
জেলা প্রশাসকের কাছে স্বামীর মুক্তি চেয়ে লেখা চিঠিতে তার স্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘আমার স্বামী আবদুল মাবুদ ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর দুদকের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) পর্যন্ত তার হাজতবাস ৩ বছর ৯ মাস ২৯ দিন অতিবাহিত হয়েছে। অথচ গত ২৫ জুলাই চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত আবদুল মাবুদকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ৩ বছর, ২ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ মাস, ৪২০ ধারায় ৬ মাস, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ মাস, ৪৬৭ ধারায় ৬ মাস, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ মাস, ৪৬৮ ধারায় ৬ মাস, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ মাস, ৪৭১ ধারায় ৬ মাস, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ মাস, ৪৭৭ ধারায় ৬ মাস, ৫ হাজার টাকা ও অনাদায়ে ১ মাস সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ৬ মাস, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। ঘোষিত রায়ে বলা হয়, সাজাগুলো একইসঙ্গে চলবে। সে অনুযায়ী তার হাজতবাস দুই মাস আগেই শেষ হয়েছে।’
সুলতানা রাজিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার স্বামীকে আদালতের দেওয়া কারাদণ্ড দুই মাস আগে শেষ হয়েছে। বিষয়টি কারা কতৃর্পক্ষকে জানিয়েছি। কিন্তু তারা কিছুই শুনছেন না। বাধ্য হয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে চিঠি দিয়ে বন্দি স্বামীর মুক্তি চেয়ে আবেদন করেছি।’
সুলতানা রাজিয়ার আইনজীবী চট্টগ্রাম মহানগর অতিরিক্ত পিপি শাহেদুল আজম শাকিল বলেন, ‘আমি হিসাব করে দেখেছি বন্দি মাবুদ অতিরিক্ত সাজা ভোগ করছেন। দুই মাস আগে তার সাজা শেষ হয়েছে। বিষয়টি আমার মক্কেল কারাগারে গিয়ে জানিয়েছেন। কিন্তু দায়িত্বরতরা তার কথা শুনছেন না।’
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. মঞ্জুর হোসেনের বক্তব্য নিতে মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে একজন ডেপুটি জেলার বলেন, ‘জেল কোর্ড অনুযায়ী বন্দি আবদুল মাবুদের সাজা খাটার মেয়াদ শেষ হয়নি। তিনি চার মামলার আসামি। তিন মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। একটি মামলায় জামিন পাননি।’
