রাতের ইবাদতের গুরুত্ব

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ১২:৩৮ এএম

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনের বেলায় ব্যস্ত থাকতেন। নিজের ব্যক্তিগত কাজ থেকে শুরু করে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা, কোরাইশদের হামলার বিরুদ্ধে সৈন্য প্রেরণ, ইহুদি চক্রান্তে সতর্কের নানা কৌশল অবলম্বন, সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শ্রবণ ও ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিচার পরিচালনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতেন। এসবের পাশাপাশি রাতের অবসর মুহূর্তকে ইবাদতের মোক্ষম সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতেন। এশার নামাজের পর কথা বলা একেবারেই পছন্দ করতেন না। খুব জরুরি বিষয় না হলে কারও সঙ্গে এ সময় দেখা পর্যন্ত করতেন না। মসজিদ থেকে সোজা বাড়ির অন্দরে চলে আসতেন। পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে কিছুক্ষণ আলাপের পর সারাদিনের ক্লান্ত দেহটাকে বিছানায় এলিয়ে দিতেন। রাতের প্রথমভাগে নিদ্রা যেতেন। অবশিষ্ট রাত ইবাদতে অতিবাহিত করতেন। অর্ধরাত পার হওয়ার কিছু পরেই চোখ ঘষতে ঘষতে উঠে পড়তেন। সেই অর্ধজাগরণ-অর্ধঘুমস্ত অবস্থাতেও মুখে ইস্তেগফার অথবা কোরআনের কোনো আয়াত উচ্চারিত হতো। মেসওয়াক ও অজুর পর ইবাদত-বন্দেগি শুরু করতেন। অতঃপর দীর্ঘ সময় ধরে নামাজ আদায় করতেন।

হজরত জায়েদ ইবনে খালেদ আল জুহানি (রা.) বলেন, আমি একবার মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলাম যে, আজ রাতে রাসুল (সা.)-এর রাতের নামাজের প্রতি লক্ষ রাখব। অতঃপর আমি দেখলাম যে, তিনি ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক ও অজু করে সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত নামাজ পড়েন। তারপর দীর্ঘায়িত করে দুই রাকাত নামাজ পড়েন। তারপর আরও দুই রাকাত নামাজ পড়েন, এ দুই রাকাত আগের দুই রাকাতের চেয়ে কিছুটা সংক্ষিপ্ত করেন। অতঃপর আরও দুই রাকাত নামাজ পড়েন এ দুই রাকাত ছিল আগের দুই রাকাতের চেয়েও সংক্ষিপ্ত। তারপর আরও দুই রাকাত নামাজ পড়েন, তা ছিল আগের দুই রাকাতের চেয়ে সংক্ষিপ্ত। অতঃপর বিতর নামাজ পড়েন। সর্বমোট নামাজ পড়েছেন ১৩ রাকাত। সহিহ মুসলিম

নবী করিম (সা.) রাতের নামাজে কান্নাকাটি করতেন। এমনকি সাহাবিরা তার কান্নার শব্দ শুনতেন। রাসুল (সা.)-এর রাতের নামাজ বেশ দীর্ঘ হতো। হজরত মুগিরা (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) রাতের নামাজে এত দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকতেন যে, তার কদম মোবারক ফুলে যেত। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, আপনি এমন কেন করেন, অথচ আপনার অতীতের ও ভবিষ্যতের সব গোনাহ ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি প্রত্যুত্তরে বলেছেন, আমি কি কৃতজ্ঞশীল বান্দা হবো না? সহিহ বোখারি

হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নামাজের দীর্ঘ স্থায়িত্ব সম্পর্কে প্রত্যক্ষদর্শী হজরত হুজাইফা (রা.) বলেন, এক রাতে আমি নবী করিম (সা.)-এর সঙ্গে নামাজ পড়ার সুযোগ লাভ করি। প্রথম রাকাতে কোরআন মাজিদের সবচেয়ে বড় সুরা, সুরা বাকারা পাঠ করতে শুরু করলেন। আমার ধারণা হলো অন্তত একশ আয়াত পাঠ করবেন, কিন্তু একশ আয়াতও যখন পেছনে পড়ে থাকল, তখন অনুমান করলাম বোধহয় প্রথম রাকাতেই সুরা বাকারা শেষ করে দেবেন। কিন্তু আমার এ অনুমানও মিথ্যা প্রমাণিত হলো। সুরা বাকারা শেষ করে হুজুর (সা.) প্রথম রাকাতেই সুরা আলে ইমরান এবং সুরা নিসা পাঠ করলেন। অত্যন্ত ধীরে-সুস্থে প্রতিটি আয়াতের মর্ম সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে, এমনকি যেখানে যেখানে দোয়ার আয়াত আছে সেখানে দোয়া করে তিন সুরায় সোয়া পাঁচ পারা তেলাওয়াত শেষ হওয়ার পর রুকু করলেন। রুকুর মধ্যেও কিয়ামের মতো দীর্ঘ সময় ব্যয় হলো। দীর্ঘ রুকু হতে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ততটা সময় অপেক্ষা করলেন। তারপর সিজদা করলেন, সিজদার মধ্যে রুকুর ন্যায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। সহিহ মুসলিম

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত