বাবার লাশ ১০ টুকরো করা আরেক ছেলে গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৬:২৯ এএম

চট্টগ্রামে বাবা মো. হাসানকে হত্যার পর লাশ দশ টুকরো করার অভিযোগে আরেক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার একটি কারখানা থেকে নিহত হাসানের ছেলে সফিকুর রহমান জাহাঙ্গীরকে (৩০) আটক করা হয়। পরে গতকাল শনিবার সকাল থেকে তাকে নিয়ে তার বাবার কাটা মাথার সন্ধানে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে তল্লাশি চালান পিবিআই সদস্যরা। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই কাটা মাথার সন্ধান মেলেনি।

এর আগে সফিকুরের মা ছেনোয়ারা বেগম (৫০), বড় ভাই মোস্তাফিজুর রহমান (৩২) ও স্ত্রী আনারকলিকে (২৪) গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের পরিদর্শক মো. ইলিয়াস খাঁন বলেন, ‘বাবাকে খুনের পর সফিকুর পালিয়ে ঢাকায় চলে যান। সুমন নাম উল্লেখ করে হাজারীবাগে একটি ট্যানারিতে চাকরি নেয়। পুলিশ যাতে কোনোভাবে তাকে শনাক্ত করতে না পারে, সেজন্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। একপর্যায়ে আমরা হাজারীবাগের ট্যানারিতে তার অবস্থানের বিষয়ে নিশ্চিত হই। গ্রেপ্তারের সময় তিনি নিজেকে সুমন এবং বাড়ি মিরসরাই উপজেলায় বলে পরিচয় দেয়। কিন্তু তাকে ছবি-এনআইডি দেখানোর পর নিজেকে আর আড়াল করতে পারেনি।’

খুনের শিকার মো. হাসান (৬১) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কাথারিয়া ইউনিয়নের বড়ইতলী গ্রামের সাহাব মিয়ার ছেলে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর পতেঙ্গা বোট ক্লাবের অদূরে ১২ নম্বর গেটে একটি ট্রলিব্যাগে হাসানের ২ হাত, ২ পা, কনুই থেকে কাঁধ এবং হাঁটু থেকে ঊরু পর্যন্ত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পতেঙ্গা থানার এসআই আবদুল কাদির বাদী হয়ে মামলা করেন।

এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে নগরীর আকমল আলী সড়কের একটি খাল থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় টেপে মোড়ানো হাসানের শরীরের আরেকটি খণ্ড উদ্ধার করে পিবিআই। আঙুলের ছাপ নিয়ে নিহত হাসানের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় হাসানের স্ত্রী ছেনোয়ারা ও বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমানকে। পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২৮ বছর নিখোঁজ থাকার পর দুই বছর আগে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন হাসান। ফিরেই তিনি ভিটেমাটি বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। এ নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে তার বিরোধ বাধে। ২০ সেপ্টেম্বর সকালে হাসান ও তার স্ত্রী, বড় ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান ইপিজেড থানার আকমল আলী সড়কের পকেট গেট এলাকার জমির ভিলায় ছোট ছেলে সফিকুর রহমান জাহাঙ্গীরের বাসায় ছিলেন। সেখানে বাবা ও দুই ভাইয়ের মধ্যে এ নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে বড় ছেলে মোস্তাফিজুর গলা টিপে ধরলে মারা যান হাসান। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে দুভাই মিলে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে সেটি কেটে কয়েক টুকরো করে সেগুলো বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত