হাইকোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, আপিল আদালতে একে একে ২৬টি মামলা লড়েছেন। সবগুলো মামলাতেই জিতেছেন কেনিয়ার নাগরিক ব্রায়ান মুয়েন্ডা। তার পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেননি কোনো বিচারকই। তবে সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তারের পর জানা গেছে তিনি আসলে একজন ভুয়া আইনজীবী। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান।
প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে বিজনেস ইমেল কম্প্রোমাইজ নামের একটি বহুল ব্যবহৃত জালিয়াতি স্কিমের মাধ্যমে ব্রায়ান এ কাজ করতে পেরেছেন। তিনি প্রতারণার যে কৌশল নিয়েছেন তাতে প্রথমে একজন প্রকৃত আইনজীবীর নামে প্র্যাকটিসিং সার্টিফিকেটের জন্য ফি পরিশোধের আবেদন জানান। ভুল ইমেলের কারণে প্রাথমিকভাবে তার আবেদন প্রত্যাখান হলেও তিনি আবার অনুমতি ছাড়াই তার অ্যাকাউন্টের এক্সেস পেতে সক্ষম হন। নিজের আসল পরিচয় গোপন করতে নিজের প্রোফাইলে ছবি ও কাজের বিবরণ পরিবর্তন করে ফেলেন। এভাবেই নিজেকে আইনজীবী হিসেবে ছদ্দবেশ নিতে সক্ষম হন।
আফ্রিকার ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা ফ্যাক্ট ইস্ট আফ্রিকা এক টুইট পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের টুইটার পোস্টে বলা হয়েছে, কেনিয়ার কর্তৃপক্ষ ব্রায়ান মুয়েন্ডা নামের এক ভুয়া আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি হাইকোর্টে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে মামলা লড়েছেন। ২৬টি মামলা লড়ে সবগুলোতেই জয় পেয়েছেন তিনি।
এদিকে টুইটার পোস্টে তার সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন অনেকে। একজন লিখেছেন, আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা আইনজীবীদের কাছে জেতার পরেও তাকে শাস্তি পেতে হবে? শাস্তি তো তাদের হওয়া উচিৎ যারা তার কাছে হেরেছে।
অপর একজন লিখেছেন, আমি এটা বিশ্বাস করি না, আমি মনে করি সে এত ভালো আইনজীবী যে তাকে বের করে দেওয়ার জন্য ভুল সংবাদ ছাপানো হচ্ছে। কোনো ভুয়া আইনজীবী আসল আইনজীবীদের বিপক্ষে ২৬টি মামলার সবগুলোতে জয় পেতে পারে না।
এমন সময়ে মুয়ান্ডার সমর্থনে দাঁড়িয়েছে সেন্ট্রাল অর্গানাইজেশন অফ ট্রেড ইউনিয়ন (কেনিয়া)। সংস্থাটির সেক্রেটারি জেনারেল ফ্রান্সিস অ্যাটওলি শনিবার একটি বিবৃতিতে বলেছেন, যদি এটি সত্য হয় যে ব্রায়ান আইন অনুশীলন করছেন এবং আইনী বিষয়ে সফলভাবে তার মক্কেলদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, আমরা আইনের ক্ষেত্রে তার জ্ঞান, দক্ষতা এবং দক্ষতা পরীক্ষা করার জন্য একটি ন্যায্য এবং স্বচ্ছ পরীক্ষার জন্য দৃঢ়ভাবে সমর্থন করি। মুয়ান্ডার কাছে হেরে যাওয়া আইনজীবীদের লাইসেন্স বাতিলের দাবিও করেছেন কেউ কেউ।