দেশে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ঠিকই, তবে সেটি আশানুরূপ হারে নয়। এর কারণ হিসেবে দূষণকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশে উৎপাদিত মোট ইলিশের ৫৬ শতাংশ আসে বঙ্গোপসাগর থেকে। বাকি ইলিশের ৩০ শতাংশ মেঘনা অববাহিকা ও ৪ শতাংশ আসে পদ্মা নদী থেকে। তবে সাগরের মোহনা ও নদীর বিশাল এলাকা জুড়ে দূষণের কারণে ইলিশ আসতে পারছে না। এলেও সরে যাচ্ছে। এতে ইলিশ উৎপাদনের হার বাড়ছে না।
ইলিশের নিরাপদ প্রজননের জন্য বর্তমানে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। সরকারের দেওয়া এ নিষেধাজ্ঞা গেল ১২ অক্টোবর শুরু হয়, যা চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত। তবে নিষেধাজ্ঞার এই সময়টাতেও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অপরিকল্পিত ড্রেজিং চলছে। শব্দের কারণে ইলিশ মোহনায় আসছে না, প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে করে উপকূলে ইলিশের বিচরণক্ষেত্র কমে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে সরকারের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ফল নিয়ে আসবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, এ সময়টাতে সাগর থেকে নোনাপানির ইলিশ ডিম পাড়তে নদীর উজান পেরিয়ে আসে মিঠাপানিতে। এরপর আবার ডিম ছাড়া শেষে তারা ভাটিতে ভেসে ধরে সাগরের পথ। পড়ে থাকে না সদ্য ডিম ফুটে মাছ হওয়া জাটকাও। মায়েদের সঙ্গে তারাও যোগ দেয় রোমাঞ্চকর যাত্রায়। ইলিশ সংবেদনশীল মাছ। যে কারণে নদীতে শব্দ পেলে তারা অন্যত্র চলে যাবে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা এনহ্যান্সড কোস্টাল ফিশারিজ ইন বাংলাদেশের (ইকোফিস) সহকারী গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, ইলিশ দ্রুতগতিসম্পন্ন মাছ। এই সময়টাতে মা-ইলিশ বঙ্গোপসাগর থেকে নদীতে ডিম ছাড়তে আসে। তবে ইলিশ কোনো ধরনের শব্দ বা কম্পন সহ্য করতে পারে না। এই সময়টাতে ড্রেজিং বন্ধ রাখা উচিত।
আন্ধারমানিক নদীপাড়ের জেলে মনির মিয়া বলেন, নদীতে মাছ যাতে প্রবেশ করতে পারে তার জন্য এ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। কিন্তু সমুদ্রের মোহনায় ব্যক্তিমালিকানাধীন ড্রেজারের কম্পন ও শব্দদূষণের কারণে বঙ্গোপসাগরের মোহনা দিয়ে ইলিশ নদীতে প্রবেশ করছে না। সরকারের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত এই ড্রেজিং বন্ধ করা হোক।
মহিপুর এলাকার জেলে জসিম প্যাদা বলেন, ২৪ ঘণ্টা সমুদ্রের মোহনায় ব্যক্তিমালিকানাধীন ড্রেজারে অপরিকল্পিত ড্রেজিং কাজ করছে। এই নিষেধাজ্ঞার সময়টুকুর জন্য হলেও অপরিকল্পিত ড্রেজিং বন্ধ করা হোক।
জানতে চাইলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, মাছের অভয়ারণ্যে বা প্রজননক্ষেত্রে ড্রেজিং করা হয় এমন তথ্য নেই। তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
