ডিম আগে না মুরগি আগে?

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ০৪:৪০ পিএম

পৃথিবীর অন্যতম তর্কের বিষয় হলো ডিম আগে না মুরগি আগে। অনেক প্রাচীন এ ধাঁধা। গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই এ বিষয়ে গবেষণা করছিলেন। তাদের একটি দলের উত্তর হলো, মুরগি আগে, তার পরে ডিম।

তারা বলছেন, মুরগির ডিমের খোসায় এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিনটির নাম ‘ওভোক্লেইডিন’। এটি ছাড়া ডিমের খোসা তৈরি হবে না। আর এই প্রোটিনটি শুধু মুরগির জরায়ুতেই তৈরি হয়। এখন মুরগি যদি আগে না আসত, তাহলে এ বিশেষ প্রোটিনও তৈরি হতো না। ফলে আসত না ডিমও।

তবে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল বলেছেন, যদি প্রথম কোনো মানুষ থেকে থাকে তবে সে অবশ্যই বাবা বা মা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছে; যা প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ। অর্থাৎ তিনি বলতে চেয়েছেন মুরগি এসে ডিম পেড়েছে।

ধারণা করা হয় যে, বর্তমান মুরগির আগে ‘প্রোটো-চিকেন’ নামে এক পাখি ছিল যেটা প্রোটো এগ নামক ডিম পারত। এটা থেকে মিউটেশন হয়ে একদিন এর প্রোটো এগ ফেটে মুরগি বের হলো যে মুরগি ডিম পাড়তে লাগল। অর্থাৎ, প্রাগৌতিহাসিক মুরগি-সদৃশ এক পাখি ভিন্নধর্মী এক ডিম পাড়ার ফলে উদ্ভব ঘটে আদিতম মুরগির। তাই মুরগির আগেই ডিম এসেছে।

গবেষকরা আরও বলছেন, প্রাচীনতম ডিমটি ১৯ কোটি বছর আগের বলে ধারণা করা হয়। আর এটি ছিল উড্ডয়ন অক্ষম প্রাচীনতম পাখি আর্কিওপটেরিক্সেরও আগের। যার অর্থ পাখির কোনো জাতি আসার আগেই অন্য সরীসৃপ প্রজাতিরা ডিম পাড়ত। এরপর এমন কোনো ডিমের ভেতর ডিএনএতে মিউটেশন হয়েছিল, যার ফলে সরীসৃপ প্রজাতিতে ভিন্নতা আসে। যা ধীরে ধীরে পাখিতে রূপান্তরিত হয়। এতে কোটি বছরও সময় লাগতে পারে।

বিস্তারিত পড়ুন: ডিম নিয়ে যত কথা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত