শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোকসাহিত্যবিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার দীনেশচন্দ্র সেনের ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলা একাডেমি। বেলা ১১টায় কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা।
তিনি বলেন, দীনেশচন্দ্র সেন লোকবাংলার মহান মনীষার নাম। তিনি বাংলার লোক-ইতিহাস পাঠকের কাছে তুলে ধরেছেন এবং বঙ্গীয় ফোকলোরকে বিশ্বপরিসরে উপস্থাপন করেছেন।
অনুষ্ঠানে ‘দীনেশচন্দ্র সেন: বাংলাদেশের লোককলা গবেষণায় নাবিকের বাতিঘর’ শীর্ষক বক্তৃতা দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. ইউসুফ হাসান অর্ক।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি তথা লোককলা বিষয়ক গবেষণায় দীনেশচন্দ্র সেনের অবদান বিবেচনা করতে গেলে ব্রিটিশ ভারতের সময়কালকে অনুধাবণ করেই বিশ্লেষণ করতে হয়। পুরোধা গবেষকদের প্রেরণায় দীনেশচন্দ্র সেন তার সংকলিত গ্রন্থাবলির দ্বারা এ দেশের লোককলা বিষয়ক গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যান। ১৯১০-২০ এর মধ্যে তার বক্তৃতামালা যখন বাংলা বা ইংরেজিতে প্রকাশ হতে থাকে তখন বঙ্গীয় লোকসাহিত্যের শ্রেষ্ঠত্ব ও ঐতিহ্যের স্মৃতি শক্তিতে পরিণত হতে শুরু করে।
তিনি আরো বলেন, দীনেশচন্দ্র সেনের মৈমনসিংহ গীতিকার প্রকাশ লোকসাহিত্য তথা ফোকলোরের গবেষণার ক্ষেত্রে একটি মাইলস্টোনের মতো কাজ করেছিল। লোককলা বিষয়ে গবেষণার পথপরিক্রমায় দীনেশচন্দ্র সেনকে বাতিঘর আর মৈমনসিংহ গীতিকাকে সেখান থেকে বিচ্ছুরিত আলো হিসেবে মেনে নেওয়া যায় অনায়াসে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকার। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলা একাডেমির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. হাসান কবীর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. সাইমন জাকারিয়া।