সরকার অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ: বিরোধী দল

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:১২ পিএম

জাতীয় পার্টিসহ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, সরকার অর্থ পাচারকারী ও ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

আজ বুধবার নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার চুক্তি বাস্তবায়নে আইন করার লক্ষ্যে ‘নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বিল-২০২৩’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। বিলটি পাসের আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্য মুজিবুল হক, কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ ও রওশন আরা মান্নান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।

সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রীর পক্ষে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। পরে কণ্ঠ ভোটে বিলটি পাস হয়। এর আগে স্পিকার বিলের ওপর আনীত জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন। বিরোধী দলের সদস্যদের উত্থাপিত সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের বক্তব্যের জবাবে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সরকার অর্থ পাচারকারী ও ঋণখেলাপীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নতুন আইনটি পাস হলে যে কোন মুদ্রায় ঋণ নেওয়া যাবে। যা ডলার সংকট মোকাবেলায় কাজে আসবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক বলেন, ব্রিকস তো আছে, এটা হবে। কিন্তু আমাদের দেশের যে ব্যাংকগুলি আছে, তার অবস্থা খুবই খারাপ। বিষয়টা বার বার অর্থমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষক করেও কাজ হয়নি। সাইথ বাংলা নামের একটা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হাজার কোটি টাকা মেরে চলে গেছে। এরকম আরো অনেকে টাকা মেরে চলে যাচ্ছে। ওই টাকাগুলো দেশে নাই, যে কোনোভাবে তারা বিদেশে পাচার করেছে। যার জন্য আজ দেশ ডলারের সংকটে পড়েছে। এই সমস্ত লোকগুলোকে কেন চিহ্নিত করা হয় না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রাইভেট ব্যাংক, আধা সরকারি ও সরকারি ব্যাংক থেকে যারা লোন নেয় সেটা ঠিকমতো তদারকি করা হয় না। যে কারণে অনেকে মনে করে কোনো রকম ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারলেই বোধ হয় ফেরত দেওয়া লাগবে না। অর্থমন্ত্রী কি করেছেন ৫ বছর জানি না, এতো বার বললাম তদন্ত করেন। প্রয়োজনে সংসদের কমিটি করেন। কিš কোন পদক্ষেপ নিলেন না। আমি সংসদ নেতাকে (প্রধানমন্ত্রী) বলব, এটা দুঃখজন যে ব্যাংকগুলিকে কতিপয় লোক এই মালিক নামধানি খালি করে দিয়েছে।

জাতীয় পার্টর সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারি তার বক্তব্যে ব্রিকসের এই ব্যাংক থেকে ডলারে ঋণ নেওয়া যাবে কি না তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে বলেন, ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা ঠিককরতে হবে। তদারকি বাড়াতে হবে। কারণ ব্যাংকের মালিক ৪০০ কোটি টাকা ঋণ নিলেও তার সুদ মাফ হয়েছে। কিন্তু ৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কৃষককে জেলে যেতে হয়েছে। যেটা খুবই দুঃখজনক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত