সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সম্পাদকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। একই সঙ্গে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলার পরামর্শ দেন তিনি। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দেশে বিশৃঙ্খল নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চলছে এবং গত ২৮ অক্টোবর ঢাকা শহরে বিএনপির সমাবেশের নামে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে এবং কার্যত রাষ্ট্রের ওপর হামলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা, হাসপাতালে, জাজেস কমপ্লেক্সে হামলা আগে কখনো ঘটেনি। রাষ্ট্রের ওপর এই হামলাকারীরা চিহ্নিত, তারা বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী।’
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন সাপ পিটিয়ে মারার চেয়েও জঘন্যভাবে একজন পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর কায়দায় পুলিশ হাসপাতালে হামলা চালিয়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ ১৯টি গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডেমরায় ট্রাক ও বাসের সঙ্গে ঘুমন্ত হেলপারদেরও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এরপর হরতাল-অবরোধ ডেকেও তারা যানবাহন ও মানুষের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা পরিচালনা করেছে, দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। রাজনীতির নামে এই সন্ত্রাস কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যম মানুষের ধ্যান-ধারণা তৈরি করে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিএনপির হামলায় ৩০ জনের বেশি সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং তাদের ওপর হামলার ভয়াবহতা, নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা কী রকম ছিল, সেটি সারা দেশের জনগণ জানে না। এটা জানানোর দায়িত্ব আপনাদের। আপনারা টেলিভিশনে দেখেছেন একজন গাড়ির মালিক বিলাপ করে করে বলছে যে “আমার গাড়িটা জ্বালাইয়া দিছে”। বিএনপির যে দুষ্কৃতকারী গাড়িটা পুড়িয়ে দিয়েছে, তার বুকের বেল্টে “প্রেস” লেখা ছিল। এভাবে সাংবাদিকদের মানহানি বা অ্যাবিউজ করা হয়েছে। এটার বিরুদ্ধে জনমত তৈরি করতে হবে। জনমত তৈরি করতে হলে এগুলো লিখতে এবং বলতে হবে।’
সভায় দ্য ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের ইমেরিটাস সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, কালের কণ্ঠের সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী, ডেইলি সানের প্রধান সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, ভোরের ডাকের সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, দৈনিক কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, দেশ রূপান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা মামুন, বাংলাদেশ বুলেটিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রতন, আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক মাইনুল আলম, প্রতিদিনের বাংলাদেশের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি, আজকালের খবরের সম্পাদক ফারুক আহমেদ তালুকদার, সংবাদ প্রতিদিনের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক রিমন মাহফুজ, প্রতিদিনের সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশের আলোর সম্পাদক মফিজুর রহমান খান বাবু, বাংলাদেশ টুডের সম্পাদক জোবায়ের আলম, ডেইলি পিপলস লাইফের সম্পাদক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাসিমা খান মন্টি এবং দৈনিক ভোরের আকাশের উপদেষ্টা সম্পাদক মোতাহার হোসেন সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং রাজনীতির নামে সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তাদের লেখনী অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
