পদ্মাসেতু চালু হওয়ায় প্রতিদিন সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসে দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটক। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই পর্যটনকেন্দ্রে অন্যান্য দোকানের মতো ওষুধের দোকান বা ফার্মেসি রাতে বন্ধ থাকে। এতে পর্যটন কেন্দ্রে বসবাসকারী ও রাত্রিযাপনকারী আগত পর্যটকরা জরুরি ওষুধের প্রয়োজন পড়লে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। তাই রাতে গুরুত্ব বিবেচনায় ফার্মেসি খোলা রাখার দাবি স্থানীয় ও পর্যটকদের।
কুয়াকাটা নবীপুর এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস আকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার বৃদ্ধা মা অসুস্থ। আমার দুই বাচ্চা। মায়ের জন্য অনেক ওষুধ কিনতে হয়। এই বয়সে যেকোনো সময় মা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। রাত ১০টা ১১টার পর সকল ওষুধের দোকান বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে দোকান বন্ধ থাকলে জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ পাব কোথায়। ওষুধের যে পরিমাণ দাম বেড়েছে একসঙ্গে অনেক ওষুধ কিনে রাখার সামর্থ্যও নেই।
ঢাকার মিরপুর ১২ থেকে পর্যটকদম্পতি রাজিব হোসেন ও হাফসা বেগম ১৬ অক্টোবর কুয়াকাটা ভ্রমণে আসেন। এসময় কুয়াকাটা হোটেল সমুদ্র বিলাস একটি কক্ষে রাত্রি যাপন করেন। হঠাৎ রাতে রাজিব হোসেনের হৃদরোগের ওষুধের প্রয়োজন হলে তিনি হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেন।
হাফসা বেগম বলেন, তারা কুয়াকাটা ভ্রমণে আসে। আসার পথে রাজিব হোসেনের হৃদরোগের নিয়মিত ওষুধ ভুলে বাসায় রেখে আসেন। ওই দোকান বন্ধ থাকায় তিনি তার স্বামীর বাঁচার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তবে তাৎক্ষণিক হোটেল কর্তৃপক্ষ ওষুধের ব্যবস্থা করায় তিনি হাঁফছেড়ে বেঁচেছেন। ওষুধের ব্যবস্থা করায় ধন্যবাদ জানান তাদের।
কুয়াকাটা হোটেল সমুদ্র বিলাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইসমাইল শেখ ওই রাতের ঘটনার উল্লেখ করে আরও বলেন, অসুখ-বিসুখ ঘড়ির সময় ধরে আসে না। যেকোনো সময় যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। রাত-দিন যেকোনো সময় প্রয়োজন দেখা দিতে পারে জরুরি ওষুধ কিংবা আনুষঙ্গিক স্বাস্থ্যসেবা উপকরণের। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কুয়াকাটায় অন্যান্য দোকানের মতো ফার্মেসিও রাতে বন্ধ থাকে। ১৬ অক্টোবর তার হোটেলে অবস্থানকারী একজন অতিথি হঠাৎ রাত দেড়টায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিন্তু ওই সময় কোনো ফার্মেসি খোলা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিষয়টি ট্যুরিস্ট পুলিশকে অবহিত করার পর তাদের সহযোগিতায় স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে দোকান খোলেন। তিনি বলেন, এভাবে একটা পর্যটননগরী চলতে পারে না। দ্রুতসময়ের মধ্যে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ফার্মেসি খোলা রাখার দাবি জানান তিনি।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। পর্যটননগরীতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা মানুষের বিচরণ থাকে। স্বাভাবিকভাবে মানুষ অসুস্থ হতে পারে। অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিকভাবে ওষুধের প্রয়োজন হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফার্মেসি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে কথা বলব। যাতে সারারাত রোটেশন করে একটি ফার্মেসি খোলা রাখার ব্যবস্থা করব। এটি যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হয় তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
