যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টার মিথ্যা পরিচয় দেওয়া জাহিদুল ইসলাম ওরফে মিয়া আরেফিকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এরপর তার বিরুদ্ধে মিথ্যা পরিচয়ে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় গত বৃহস্পতিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। কিন্তু চার দিন পার হলেও মিয়া আরেফিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিতে পারেনি ডিবি।
যদিও একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিয়া আরেফিকে গত ২৯ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার আদালত রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করলে ওইদিনই ডিবির কর্মকর্তারা তাকে আনতে কারাগারে যান। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ তাকে ডিবির কাছে দেয়নি। পরে গত শনিবার ডিবি কর্মকর্তারা মিয়া আরেফিকে আনতে আবার কারাগারে যান। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও অদৃশ্য কারণে কারা কর্র্তৃপক্ষ তাকে ডিবি কর্মকর্তাদের কাছে দেয়নি।
জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর মিয়া আরেফি প্রথমে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকলেও পরে তাকে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর বৃহস্পতিবার ডিবি কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মিয়া আরেফিকে কারাগার আনতে যান। কিন্তু রিমান্ড মঞ্জুরের আদালতের আদেশনামা ওই সময় না পৌঁছার কারণে তাকে সেদিন ডিবি কার্যালয়ে আনা যায়নি। মিয়া আরেফির রিমান্ড মঞ্জুর যখন হয়েছে, তখন ডিবি সময়-সুযোগ ও প্রয়োজনমতো কারাগার থেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে।’
এর আগে গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিয়া আরেফি। তখন সেখানে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী ও বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। পরদিন ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিয়া আরেফিকে আটক করে পুলিশ। ওইদিনই ‘মিথ্যা পরিচয়ে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগে মিয়া আরেফি, চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী ও ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মামলা করেন মহিউদ্দিন শিকদার নামে এক ব্যক্তি।
