হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হলেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইসরায়েলের হাতে থাকবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যের পর থেকেই নিন্দা ও আলোচনার ঝড় উঠেছে বিশ্বজুড়ে। এর মানেকি গাজা দখল করতে যাচ্ছে ইসরায়েল?
ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসিতে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন।
তার মতে নেতানিয়াহু ঠিক কি বোঝাতে চান তা সংজ্ঞায়িত করা কঠিন হলেও ধারণা করা হচ্ছে গাজা দখল নয়, গাজায় আইন প্রয়োগ এবং শৃঙ্খলার দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে ইসরায়েল। অর্থাৎ গাজা ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এই উপত্যকার ওপর সব ধরনের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা থাকবে ইসরায়েলের।
নিরাপত্তা দায়িত্ব শব্দটি ইসরায়েলের অধিকৃত আরেক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে ব্যবহৃত হয়।
অসলো চুক্তির অধীনে ১৯৯০ এর দশক থেকে প্রথম ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি শান্তি চুক্তিতে সম্মত এলাকাগুলির মধ্যে একটি ছিল পশ্চিম তীর। এই অঞ্চলের কিছু অংশ ফিলিস্তিনি পৌরসভা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা দায়িত্বের অধীনে রয়েছে।
এর মানে হল পশ্চিম তীরে ইসরায়েলিরা আইন প্রয়োগ এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে তাদের খুশি মতো আসা-যাওয়া করে থাকে, কিন্তু আবর্জনা সংগ্রহ করা এবং স্কুল চালানোর মতো আরও জাগতিক কাজগুলো ফিলিস্তিনিরা করে।
তবে এইসব কাজের জন্য একটি ফিলিস্তিনি সংস্থার প্রয়োজন হয় যেটি ইসরায়েলিদের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
তবে এরকম কোন সংস্থা পাওয়াও এখন চ্যালেঞ্জিং বিষয় হবে কারণ এতকিছুর পরও কোন ফিলিস্তিনি সংস্থা ইসরায়েলের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে রাজি হবে না। আর রাজি হলেও সেই ব্যক্তি বা সংস্থা ফিলিস্তিনিদের কাছে দেশদ্রোহী অ্যাখ্যা পাবে।
বিবিসির সাংবাদিক জেরেমি বোয়েনের ধারণা, গাজা পুরোপুরি দখল নয়, পশ্চিম তীরের মত নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে ইসরায়েল। কিন্তু এটিকেও এক ধরণের দখল বলতে চাইছেন বিবিসির এই সাংবাদিক।
