মানিকগঞ্জে চাঞ্চল্যকর মাহমুদা হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৩, ০২:৪১ পিএম

মানিকগঞ্জ জেলা শহরের দক্ষিণ সেওতা এলাকার স্টেডিয়াম রোডের চাঞ্চল্যকর মাহমুদা আক্তার (৪৫) হত্যা মামলায় দুই জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে দুই জনের যাবজ্জীবন ও একজনকে খালাস দিয়েছে আদালত।  বুধবার সকাল ১১ টায় মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জয়শ্রী সমদ্দার আসামীদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন।

গৃহিণী মাহমুদা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে মেয়েসহ মোট ৫ জনকে আসামী করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন মাহমুদা আক্তারের স্বামী জহিরুল ইসলাম।

এই হত্যা মামলার আসামীরা হলেন, ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ জিন্দাপীড় এলাকার মো. শফিউর রহমান নাঈম (২৫), একই এলাকার আব্দুল বারেকের ছেলে মো. রাকিব হোসেন (২৪), অভিযোগকারীর মেয়ে জুলেখা আক্তার জ্যোতি (১৯), নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার পূর্ব গোলমন্ডা এলাকার মো. মাহফুজার রহমান (২০) এবং একই এলাকার আব্দুল ভাসানীর ছেলে নুর বক্স।

এদের মধ্যে আসামী রাকিব ও মাহফুজার রহমানকে মৃত্যুদণ্ড, নাঈম ও জ্যোতিকে যাবজ্জীবন এবং নূর হোসেনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। 

এজাহার সূত্রে জানা গেছে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মামলার বাদী বাজার করার জন্য বাড়ির বাইরে যায়। বাজার থেকে ফিরে এক পর্যায়ে স্ত্রীকে লেপের নিচে পান। ডাকাডাকিতে কোন সাড়া না পেয়ে লেপ সরালে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে বাড়ির ভাড়াটিয়াদের সহযোগিতায় মাহমুদাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

২০২০ সালের ৩১ মে মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. শামীম আল মামুন সংশ্লিষ্ট আদালতে হত্যা মামলায় জড়িত থাকার দায়ে ৫ জন আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ২১ জন ব্যক্তি সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মানিকগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক জয়শ্রী সমদ্দার বৃহস্পতিবার চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলাটির দিন ধার্য করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তার তদন্তে উল্লেখ করেন, ঢাকার ধামরাই উপজেলার গোলাকান্দা গ্রামের মারুফের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় জুলেখা আক্তার জ্যোতির। বিয়ের দুই বছর পর ঢাকার কেরানীগঞ্জের নাঈমের সঙ্গে ফেসবুকে তার প্রেম হয় এবং এক পর্যায়ে তারা শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। এরপর ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে জ্যোতির স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হলে জ্যোতি মানিকগঞ্জে বাবার বাড়ি চলে আসে। এরপর নাঈম মাঝে মাঝে জ্যোতির সঙ্গে ওই বাড়িতে অবৈধ মেলামেশা করলে জ্যোতির মা বিষয়টি বুঝতে পারে এবং জ্যোতিকে শাসন করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জ্যোতিকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার জন মনস্থির করলে জ্যোতি নাঈমের সহায়তা নিয়ে তার মাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রেমিক নাঈম অপরাপর আসামীদের সঙ্গে এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মাহমুদা আক্তারকে হত্যা করা হয়।
 
তদন্ত সূত্রে আরও জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার আগের দিন বিকেলে জ্যোতির কক্ষে গিয়ে অবস্থান করে নাঈমসহ মোট চারজন এবং সারারাত একই কক্ষে জ্যোতিসহ সকলেই অবস্থান করেন। ঘটনার দিন সকালে জ্যোতির বাবা হাটতে ও বাজার করতে বের হলে সকল আসামীরা জ্যোতির মায়ের কক্ষে গিয়ে দেখে তিনি সেলাই মেশিনে কাজ করছেন। এ সময় জ্যোতির সামনেই তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহটি খাটের উপরে রেখে লেপ দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা। 

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর আইনজীবী আবদুস সালাম বলেন, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় জড়িত আসামিদের মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আসামী নুর বক্স এর পক্ষের আইনজীবী আমিনুল হক আকবর ও খন্দকার সুজন হোসেন বলেন বলেন, এই আসামি উপরোক্ত মামলার সঙ্গে জড়িত না। বিষয়টি সাক্ষ্য, জেরা এবং যুক্তিতর্কের সময় তুলে আনা হয়েছে। সমস্ত বিষয় শেষে বিচারক নুর হোসেনকে খালাস প্রদান করেন। কাজেই আমরা এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করছি। তবে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে যাওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেন অপরাপর আসামী পক্ষের আইনজীবীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত