‘বিএনপি নেতারা গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন। অথচ বিএনপি আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে বরাবরের মতো গুমের মিথ্যা অভিযোগ করছে— আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ নাকি কখনো গুম, খুন ও বিরোধী দলের দমনের রাজনীতি করেনি। তাহলে কারা ইলিয়াস আলী, সাইফুল ইসলাম হিরুসহ বিএনপি’র নেতাদের এবং অন্যান্য নিখোঁজ ব্যাক্তিদের নিরুদ্দেশ করেছে? প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে আপনি জানতে পারবেন।’
গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, 'বিএনপি নেতারা তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও গুমের মিথ্যা অভিযোগ করছেন। বিএনপির সন্ত্রাসী ক্যাডারবাহিনী যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সন্ত্রাস ও নাশকতা চালাচ্ছে, জনগণের জানমালের ওপর হামলা করছে। তারা নিজেরাই গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকছে। অথচ বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বরাবরের মতো গুমের মিথ্যা অভিযোগ করছে।'
এর জবাবে রিজভী বলেন, ‘গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে ভন্ডুল করেছে কে? আমার মনে হয় ওবায়দুল কাদের সাহেব হয়তো জানেন না, কিন্তু তিনি যদি তার প্রধানমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করেন তাহলে সব জানতে পারবেন। আসলে তিনি যা বলেন, সেটি অক্ষম ও নিস্ফলের আত্মপ্রসাদ।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি ও পরিত্রাণ পেতে এক দফার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ প্রেরণের দাবিতে অবরোধ চলবে। দলের মহাসচিবসহ সকল নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে অবরোধ চলবে। গণতন্ত্রের বিজয় পতাকা উড্ডীন না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। বাচঁবার অধিকার কাঁড়তে/দাস্যের নির্মোক ছাড়তে/ অগণিত মানুষের প্রাণপণ যুদ্ধ/ চলবেই, চলবেই। আমাদের সংগ্রাম চলবেই। হোকনা পথের বাঁধা প্রস্তর শক্ত/ অবিরাম যাত্রার চির সংঘর্ষে/ একদিন সে পাহাড় টলবেই/ চলবেই/ চলবেই/ আমাদের সংগ্রাম চলবেই।’
রিজভী বলেন,'২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেড় দশকে বাংলাদেশের জনপদ এক মৃত্যু উপত্যাকায় পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্রহীন, মানবাধিকারহীন, মানবিক মর্যাদাহীন এক জংলী নিষ্ঠুর স্বৈরশাসকের যাথাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ তথা আজকের বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ রক্তাক্ত, ক্ষত-বিক্ষত মানুষের করুণ আর্তনাদের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশের সমগ্র মানুষ আজ ফিরে পেতে চায়, হারানো গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে হাজারো অত্যাচার, নিপীড়ন সহ্য করে জনগণ আন্দোলন সংগ্রাম করছে।’
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, 'জনগণের দাবি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন, সকলের অংশগ্রহণ, নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া যা বিগত দেড় দশকে শেখ হাসিনা রাষ্ট্র সমাজ থেকে সেগুলো উচ্ছেদ করেছেন। উল্লেখিত দাবি আদায়ে আন্তরিক ও নিরন্তর উদ্যোগে জনগণ দৃঢ় সংকল্পে সংগ্রাম করে যাচ্ছে। অদ্ভুত এক শাসন চলছে বাংলাদেশে।’
