বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে গিয়ে ৩০০ রানের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচটা জিততে পারেনি তারা। অস্ট্রেলিয়াকে ৩০৭ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছিল তারা। তাতে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ৩৩ বল হাতে রেখে ম্যাচটা ৮ উইকেটে জিতে নেয় অজিরা। পুনেতে আজ যে ধরনের ব্যাটিং করেছেন তাওহীদ হৃদয়রা, পুরো আসরজুড়ে সেটারই ছিল অভাব।
যদিও বিশ্বকাপে আসার আগে বাংলাদেশ খেলে এসেছিল মিরপুরের শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। সেখানে মন্থর গতির উইকেটে খেলে ব্যাটসম্যানরাও যেন হারিয়েছেন চেনা ছন্দ। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন উঠেছে তাই বিশ্বকাপের পর টাইগার ক্রিকেটারদের উপলব্ধি কী? কীরকম উইকেটে খেলে এরকম আসরে আসা উচিত?
এমন প্রশ্নের জবাবে দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা নাজমুল হোসেন শান্তর জবাব, ‘সবাই তো আমরা দেখলাম কী করেছি। আমরা যত খারাপ ব্যাটিং করেছি, তত খারাপ দল আমরা না। এখন আমার কাছে মনে হয়। প্রস্তুতি ঠিক ছিল, ফলটা আসেনি তবে এটাই আশা করবো যে, যখন সামনে আমরা হোয়াইট বল ফরম্যাটে খেলবো, ওয়ানডে হোক, টি-টোয়েন্টি হোক, উইকেটগুলো যাতে ভালো হয় এবং স্পোর্টিং উইকেট হয়।’
স্পোর্টিং উইকেটের সুবিধা যে ফলটা আসবে তা জানিয়ে শান্ত বলেন, ‘সেক্ষেত্রে যেটা হবে বোলাররাও আরও উন্নতি করতে পারবে, যে কী করে ভালো উইকেটে আমরা ৩০০ রান ডিফেন্ড করতে পারবো। ভালো উইকেট মানে এই নয় যে সবসময় সাড়ে তিনশ হবে। অনেক সময় ৩০০ ডিফেন্ট করা লাগবে। তাই ওরকম উইকেটে খেলতে হবে যাতে ব্যাটিং-বোলিং দুইটাই উন্নতি হবে। আমার মনে হয় ক্রিকেট বোর্ড আমার মনে হয় এই চিন্তা করেছে এবং আমাদেরকে ওরকম উইকেট করে দিবেন বলে আশা করছি।’
বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা সবাই হতাশ করেছেন। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে আলোচনা হয়েছিল অনেক। তাকে নিয়ে চলে না। বিশ্বকাপে যার জায়গা নিশ্চিত ছিল না। সেই তিনিই প্রতি ম্যাচে দলের ব্যাটিংয়ে হাল ধরে মান রক্ষার স্কোর গড়ে দিতে সাহায্য করেছেন। যাদের কাছে প্রত্যাশা ছিল বেশি, তারাই ডুবিয়েছেন হতাশায়। বিশেষ করে লিটন দাস। যার কাছে প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু তিনি সেটা মেটাতে পারেননি।
তবে একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি নন শান্ত। বলেছেন, ‘ব্যাক্তিগতভাবে কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা বলতে আমি পছন্দ করি না। আমার মনে হয় দল হিসেবেই আমরা ভালো করিনি। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সুযোগ বেশি ছিল। উপরের থেকে যদি স্কোরটা বেশি বড় হতো, তাহলে মনে হয় দল আরও ভালো অবস্থানে থাকতো। আশা করবো সামনে ইনিংসগুলো বড় হবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে নিয়ে কিছু বলতে চাই না।’
ওপরে একটা সেঞ্চুরি থাকলে ভালো হতো কিনা? এর জবাবে শান্ত বলেন, ‘অবশ্যই! আমার মনে হয় তামিমও ভালো শুরু পেয়েছিল, লিটন, আমিও পেয়েছিলাম। আজকে যেমন পেয়েছিলাম। আমরা সবাই যে ম্যাচগুলোতে ভালো শুরু করেছিলাম, সেগুলো বড় হয়নি। এটাই লক্ষ্য থাকবে যাতে সামনে বড় করতে পারি। আমরা বারবারই মুখে বলি, তবে এখন এটা করে দেখানোটা গুরুত্বপূর্ণ। এটা করে দেখাতে হলে কেন প্র্যাকটিস দরকার, কি রকম উইকেটে খেলা দরকার, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। আশা করবো এই অভিজ্ঞতা আমাদের ভালোভাবে কাজে দিবে।’
ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে শান্তর উত্তরটা ছিল কূটনৈতিক ভাষায়। এবারের আসরে পরীক্ষা-নীরিক্ষাটা বেশিই হয়েছে। বিশেষ করে মিরাজকে কখনও তিনে-চারে আবার সাতে-আটে। সেটাও প্রায় প্রতি ম্যাচেই? বিশ্বকাপে এই পরীক্ষা-নীরিক্ষা কী আদর্শ। এরকম আসরে ভবিষ্যতেও পরীক্ষা-নীরিক্ষা করবেন কীনা?
এর জবাবে শান্তর ব্যাখ্যা, ‘না করলেই (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) ভালো। কিছু কিছু দলের বিপক্ষে অনেক সময় করতে হয়, ওই দলের স্ট্রেংথ অনুযায়ী। তবে যত কম করা যায় তত ভালো। এই বিশ্বকাপে অনেক বেশি করা হয়েছে। এটার পেছনেও ভালো কিছু করেই করা হয়েছে, সত্যি বললে। প্রতিপক্ষ দলের স্ট্রেংথ অনুযায়ী করা হয়েছে। তবে যত কম করা যায়, না করলে সবচেয়ে ভালো হয়।’
