চলতি বছরের অক্টোবরে রেমিট্যান্স প্রেরণে চমক দেখিয়েছে আরব আমিরাত প্রবাসীরা। রেমিট্যান্স প্রেরণকারী অন্যান্য সকল দেশকে পেছনে ফেলে সাতটি প্রদেশ নিয়ে গঠিত দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এবার সবোর্চ্চ রেমিট্যান্স পাঠানো হয়েছে।
সরকার ঘোষিত ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়ার আশায় বরাবরের মত অবৈধ পথে টাকা না পাঠিয়ে, বৈধ পথে টাকা পাঠিয়েছেন আমিরাত প্রবাসীরা। তবে সরকারের পূর্ব ঘোষিত আড়াই শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া গেলেও সদ্য ঘোষিত অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ প্রণোদনা না পাওয়ার অভিযোগ প্রবাসীদের।
চলতি বছরগুলোতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠানো হত। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, আর তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে ছিল আরব আমিরাত ও যুক্তরাজ্য। এবার সব দেশকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান দখল করেছে আরব আমিরাত।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুসারে গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে মোট ১৩৪ কোটি ৩৬ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। অক্টোবর মাসে তা বেড়ে দাড়ায় ১৯৭ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক রেমিট্যান্সের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে শুধু আরব আমিরাত থেকেই ৩২ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে।
গত অক্টোবর মাসে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের এই রেকর্ড অল্পের জন্যে ২০০ কোটি ডলারের মাইলফলক ছুঁতে পারেনি। প্রবাসীদের ধারণা বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক আড়াই শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ প্রণোদনা বৃদ্ধির ঘোষণায় মূলত আবার সচল হতে শুরু করেছে দেশের অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ খাতটি। প্রণোদনার আশায় অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন হুন্ডি থেকে। তবে সরকারের ঘোষণার পরেও ৫ শতাংশ প্রণোদনা না পাওয়াতে আশাহত হয়েছেন প্রবাসীরা। তাই অতিদ্রুত ৫ শতাংশ প্রণোদনা প্রদানের ঘোষণাটি বাস্তবায়নের দাবী প্রবাসীদের।
শারজাহ প্রদেশের ব্যবসায়ী সেভেন ব্রাদার্স গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান সিআইপি মো. আনিস উদ্দীন জানান, দেশে রেমিট্যান্স পাঠালে ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাওয়া যাবে এমন ঘোষণায় প্রবাসীরা বৈধপথে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত হয়েছে। ৫ শতাংশ প্রণোদনার ঘোষণা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে রেমিট্যান্সের প্রবাহ আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে।
মুহাম্মদ ইকবাল তালুকদার নামে এক প্রবাসী বলেন, আমি চলতি মাসের ৫ নভেম্বর দেশে টাকা পাঠিয়েছি। ৫ শতাংশ প্রণোদনা পাব মনে করছিলাম। কিন্তু আগের মতোই আড়াই শতাংশ পেয়েছি।