বিএনপি মুণ্ডুহীন দল: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:৪১ পিএম

বিএনপিকে মুণ্ডুহীন দল হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে ইলেকশন হবে। ওই বিএনপি ২০০৮ সালের নিবার্চনে ৩০ আসন পেয়েছিল। তারা জানে, তাদের নেতা নেই, মুণ্ডুহীন দল। তাদের এক নেতা পলাতক আসামি, এক নেতা কারাগারের আসামি। সেই দল এই দেশে নির্বাচন হতে দিতে চায় না। অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়। আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, কেউ যদি গাড়িতে আগুন বা মানুষের জীবনে আগুন দিয়ে পোড়াতে চেষ্টা করে, ওই হাত ওই আগুনে পুড়িয়ে দেবেন, উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে দেবেন, যেন আর কেউ সাহস না পায় দেশের মানুষের ক্ষতি করতে।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে খুলনা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে বিকেল ৩টা ১৬ মিনিটে সেখানে তিনি ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এলাকায় এলাকায় আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো মানুষের নিরাপত্তা দেবে। আপনারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করবেন। যারা আগুন দিয়ে মানুষ মারে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছি, যারা আগুন দেয় তাদের ধরিয়ে দিতে পারলে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার। বিএনপি-জামায়াতকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপি-জামায়াত মানে সন্ত্রাসী। এরা মানুষের জন্য রাজনীতি করে না। মানুষ খুন বিএনপি-জামায়াতের একমাত্র গুণ।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা। এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করাই আমার লক্ষ্য। যে দেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একটি মানুষও ভূমিহীন থাকবে না, একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। আর সেই প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আজকে ৮ লাখ ৪১ হাজার পরিবার বিনা পয়সায় আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাচ্ছে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রয়েছে বীর নিবাস। বিভিন্নভাবে গৃহায়ন তহবিলের মাধ্যমে আমরা ভূমিহীন মানুষদের ঘর, দুই কাঠা জমি এবং জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। যাতে কোনও মানুষ ভূমিহীন না থাকে, গৃহহীন না থাকে। মুজিববর্ষের উপহার হিসেবেই আমরা এই পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। আমাদের দেশের একটি মানুষও যেন ঠিকানাবিহীন না থাকে, সেই ব্যবস্থা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে করেছে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র আছে বলেই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে মোংলা বন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে আবারও চালু করে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বার বার সরকার গঠন করেছি, আমারতো চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমি মানুষের ভাগ্য বদল করতে চাই। বাংলাদেশের জনগণ আমার পরিবার। আপনারাই বারবার ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন ২৮ অক্টোবর কীভাবে পুলিশকে মাটিতে ফেলে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে। বেহুঁশ হয়ে গেছে, তাও ছাড়েনি। ৪৫ জন পুলিশ আহত হয়েছে। সাংবাদিকদেরও ছাড়েনি। সাংবাদিকদের তারা পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। রাজারবাগ পুলিশ স্টেশনে ঢুকে হাসপাতালে আক্রমণ করেছে। কয়েকটা অ্যাম্বুলেন্স ভেঙেছে, পুড়িয়ে দিয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে করে অত্নস্বত্তা রোগী যাচ্ছে, সেই অ্যাম্বুলেন্সে আক্রমণ করেছে। এদের মধ্যে এতটুকু মনুষ্যত্ববোধ আছে বলে আমি মনে করি না।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দারিদ্র্যতা কমেছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে, সাক্ষরতার হার বেড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে, উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের মানুষের পুষ্টির ঘাটতি নেই। শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বৃত্তি, উপবৃত্তি ও গবেষণার জন্য টাকা দেওয়া হচ্ছে। আইসিটিসহ বিভিন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত করে শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমার একটাই লক্ষ্য এ দেশের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন করা। ২০০৮ সাল ২০১৪, ২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসেছি। ধারাবাহিক গণতন্ত্রের ধারা ও উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে।

জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা বারবার আমাদের ভোট দিয়েছেন। ভোট দিয়ে আপনাদের সেবার করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আর সেই সুযোগটা দিয়েছেন বলেই আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। বদলে যাওয়া বাংলাদেশ।

নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নৌকা স্বাধীনতা দিয়েছে, উন্নয়ন দিয়েছে, ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বে। সুতরাং নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আরেকবার সেবা করার সুযোগ দিবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত