বিশ্বব্যাপী পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি ১০ জনের মাঝে একজন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। বিপাকীয় এই ব্যাধিতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। মূলত ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের অভাব কিংবা নিষ্ক্রিয়তার কারণে এমনটি হয়ে থাকে। নগরায়ন, বদলে যাওয়া খাদ্যাভ্যাস, আয়েশী জীবন যাপন, আধুনিকায়ন, বেড়ে যাওয়া আয়ুষ্কাল, এবং কর্মক্ষেত্রে নানা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে ডায়াবেটিসের হার। ডায়াবেটিস বাড়িয়ে দিচ্ছে নানাবিধ শারীরিক জটিলতা। বিকল হচ্ছে কিডনি, অন্ধত্বের শিকার হচ্ছে মানুষ। স্নায়ু বৈকল্য দেখা দিচ্ছে আক্রান্তদের।
বয়স বাড়লে ঝুঁকি:
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বাড়তে থাকে ডায়াবেটিসের। চল্লিশে পা রাখলে বলা যায় ঝুঁকির ভিতর ঢুকে গেলেন আপনি। যদিও ইদানীং বয়স ত্রিশের সীমানায় পৌঁছানোর আগে অনেকে আক্রান্ত হচ্ছেন ডায়াবেটিসে। তবু বলা যায় চল্লিশে পা দিলে সবার জেনে নেয়া দরকার রক্ত চিনির মাত্রা কেমন।
মুটিয়ে গেলে বিপদ:
স্থূলতা ডায়াবেটিসের জন্য এক বিরাট ঝুঁকি। বিশেষত পেটের মেদ বেড়ে যাওয়া ডায়াবেটিসের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। শরীরে যত বেশি মেদ ভুঁড়ি যোগ হবে ঝুঁকিও বাড়বে সমান তালে। যাদের বিএমআই ২৫ এর বেশি তারা ঝুঁকির ভিতর। বিএমআই হচ্ছে বডি মাস ইনডেক্স। এটি নির্ণয় করা যায় খুব সহজেই। আপনার ওজন কিলো গ্রামে নির্ণয় করে তাকে উচ্চতার মিটারের বর্গ দিয়ে ভাগ করলে বেরিয়ে আসবে বিএমআই। এশিয়ান জনগোষ্ঠীর বিএমআই ২৩ এর উপরে হলেই তাকে বলা যায় ঝুঁকিগ্রস্ত।
আয়েশী জীবন:
আয়েশী জীবন ডায়াবেটিসের একটি বড় ঝুঁকি। শারীরিক পরিশ্রম, হাঁটাহাঁটি কিংবা শরীরচর্চা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হ্রাস করে। পক্ষান্তরে শুয়ে বসে অনবরত খেয়ে মুটিয়ে গেলে ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেক। এমনকি তরুণ বয়সে ডায়াবেটিসের পেছনেও এই কারণটি কাজ করে।
পরিবারে ডায়াবেটিস হলে ঝুঁকি:
যাদের রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় পরিজনের ডায়াবেটিস রয়েছে তারা অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মাঝে রয়েছে। যেমন:মা, বাবা, ভাই-বোন, চাচা-ফুপু, মামা খালাদের ডায়াবেটিস থাকে তবে ঝুঁকি কিন্তু বেড়ে গেল। বিশেষত টাইপ-২ ডায়াবেটিসে এমন ঘটনা ঘটে।
মায়েদের ঝুঁকি:
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, নয় পাউন্ডের চেয়ে বেশি ওজনের সন্তান জন্মদাত্রী মা ঝুঁকিতে আছেন। যে সকল মহিলার পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম নামক ব্যাধি রয়েছে তাদেরও এই রোগের ঝুঁকি বেশী।
উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল
যারা সবেমাত্র রক্তচাপে আক্রান্ত হয়েছেন কিংবা এজন্য ওষুধ সেবন করছেন তারাও ঝুঁকির মাঝে রয়েছেন। রক্তে চর্বির মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ও বেড়ে যায়। বিশেষত ট্রাই-গ্লিসারাইডের মাত্রা প্রতি ডেসি লিটারে ২৫০ মিলিগ্রাম এর বেশি কিংবা এইচ ডি এল এর মাত্রা ৩৫ মিলিগ্রাম এর নিচে থাকলে আপনি কিন্তু ঝুঁকির ভেতর পড়ে গেলেন। আর রক্তে চিনির মাত্রা পরীক্ষা করে যদি পাওয়া যায় প্রাক-ডায়াবেটিস তবে ঝুঁকি বেড়ে গেল। আর অনেকগুলো ঝুঁকি একসঙ্গে থাকলে তো কথাই নেই। পরামর্শ ও সতর্কতা বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এর শরণাপন্নে থাকা উচিত।
