আগের দিন ছিল ঐচ্ছিক অনুশীলন। অস্ট্রেলিয়া দলের অনেকে না এলেও ঠিকই ইডেন গার্ডেনসের নেটে সময় কাটিয়ে যান গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। কিছু সময় সতীর্থ মারনাস লাবুশেনকে শিখিয়েছেন কী করে ঠিকঠাক রিভার্স সুইপ করতে হয়। সতীর্থের ক্লাস নেওয়ার পর নিজে স্ট্রোকের ফুলকি ছোটালেন নেটে।
আজ অবশ্য দলের সবাই তিন ঘণ্টার ট্রেনিং সেশনে ঘাম ঝরিয়েছেন। এসেছিলেন ম্যাক্সওয়েল। তবে সবার মতো নিয়ম মেনে অনুশীলন করেননি। ক্লাব হাউজের সামনে বসে অলস সময় পার করলেন বেশিটা সময়। এরপর সব শেষ ব্যাটার হিসেবে নেটে গেছেন, দুজন নেট বোলার ও একজন থ্রোয়ারকে দীর্ঘক্ষণ খেলেছেন। বোঝা গেছে আরেকটা পাগলামির প্রস্তুতি নিজের মতো করেই নিচ্ছেন ম্যাড ম্যাক্স।
এক পায়ে দাঁড়িয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১২৮ বল খেলে ১৫৭.০৩ স্ট্রাইক রেটে অপরাজিত ২০১ রানের ইনিংস খেলে ক্রিকেট বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন অজি তারকা। ৭ নভেম্বর আফগানদের দেওয়া ২৯২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৯১ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো কাঁপছিল অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে প্যাট কামিন্সকে নিয়ে ২০৩ রানের জুটি গড়ে দলকে জেতানোর পথে ম্যাক্সওয়েল খেলেছেন অতিমানবীয় ইনিংস। যেটা খেলতে গিয়ে তার শরীরের প্রায় পেশিতেই টান পড়েছিল। বাঁ পা একেবারেই নাড়াতে পারছিলেন না। একটা সময় যন্ত্রণায় মাঠে লুটিয়ে পড়েছিলেন।
তবে লড়াকু ম্যাক্সওয়েল ফের লড়াই চালিয়ে যান। বলতে গেলে এক পায়ে দাঁড়িয়ে পাগলাটে এক ইনিংস উপহার দেন ক্রিকেট বিশ্বকে। যে ইনিংসকে নির্দ্বিধায় আপনি স্থান দিতে পারেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেরা ইনিংসের তালিকায়। সেই ম্যাচের পর বাংলাদেশের বিপক্ষে লিগপর্বের শেষ ম্যাচটি খেলেননি ম্যাক্সওয়েল। আগামীকালের সেমিফাইনালের জন্য নিজেকে তৈরি করেছেন এই সময়টায়। দক্ষিণ আফ্রিকা বাধা পেরোতে যে তার দিকে তাকিয়ে থাকবে পাঁচবারের বিশ্ব জয়ীরা।
খুনে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উপমহাদেশের উইকেটে ম্যাক্সওয়েলের স্পিনটাও ভীষণ কার্যকর। অ্যাডাম জাম্পার সঙ্গে মাঝের ওভারে ম্যাক্সওয়েলের বোলিংটা আগের ম্যাচে মিস করেছে অস্ট্রেলিয়া। তবে দলটা অস্ট্রেলিয়া বলেই ম্যাক্সওয়েলকে নিয়ে সে দেশের মিডিয়ার সেভাবে মাতামাতি চোখে পড়েনি। ম্যাক্সওয়েল এটাই করবেন, এটাই তার কাজ- অস্ট্রেলিয়া মিডিয়ার ভাব দেখলে তাই মনে হয়।
তবে জামাইবাবুকে নিয়ে ভারতের মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। গত বছর ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভিনি রমনকে ভারতীয় রীতিতে বিয়ে করেন ম্যাক্সওয়েল। আইপিএল চলাকালে চেন্নাইয়ে হওয়া বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট তারকারা। ২০১-এর পর থেকে ভারতজুড়ে তাই শুরু হয়েছে ম্যাক্সওয়েল স্তুতি। তবে এই সবকিছুই মিথ্যা হবে যদি প্রোটিয়াদের হারানো না যায়। সেটা জানেন বলেই অজি খেলোয়াড়রা নেটে থাকলেন খুব সিরিয়াস। ম্যাক্সওয়েলের মতোই মন দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করলেন আজ।
দুপুরে শুরু হওয়া সেশনে শুরুতে দেখা গেল জোরে বলের তিন বোলারকে পুরোদস্তুর ব্যাটিং অনুশীলন করতে। হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সরা নিজেদের শাণিয়ে নেওয়ার পর একে একে বাকিরা নেটে ব্যাটিং-বোলিং করেন। সব শেষে নেটে গিয়ে ম্যাক্সওয়েল ফ্লিক, সুইপ, রিভার্স সুইপ, স্কুপ অনুশীলন করলেন প্রায় চার রাউন্ড।
দূর থেকে দেখে মনে হয়নি শারীরিক কোনো সমস্যা হচ্ছে ম্যাক্সওয়েলের। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ব্যাটিং করেছেন। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের নড়েচড়ে বসার বিকল্প নেই। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচে একটা সময় আফগান বোলারদের বড্ড অসহায় মনে হয়েছে। তার বুঝতেই পারছিলেন না বলটা কোথায় ফেলবেন, কী করেই বা থামাবেন এই ঝড়। সেটা পারেনি বলেই হতে হতেও হয়নি আফগান রূপকথা। সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। তাই বাভুমাদের ‘ম্যাড ম্যাক্সের’ পাগলামি থামাতে আঁটতে হবে নয়া ফন্দি।