মুঠোফোনে প্রেম, প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:৪৩ পিএম

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় এক তরুণীকে (২০) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বুধবার রাতে ধর্ষণের শিকার তরুণীর বড় বোন বাদী হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে ওই তরুণী দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। 

এর আগে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার তেলীপুকুর নামক এলাকায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। 

মামলায় চিরিরবন্দর উপজেলার রেলওয়ে কলোনি (মাছ বাজার) এলাকার আনছার আলীর ছেলে মুবিন (২৩), আসাদুল হকের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৭), হাবিবুর রহমান ওরফে হবির ছেলে রাব্বি (২৬) এবং মালিপাড়া এলাকার আব্দুল গণি ওরফে দুলুর ছেলে আল-আমিনসহ (২৬) অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। 

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ৩ থেকে ৪ মাস আগে মোবাইল ফোনে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার মাগুরা সরকারপাড়া এলাকার ওছমান আলীর ছেলে মোছাদ্দেকুল ইসলাম মাসুমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্রেমিকের হাত ধরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান ওই তরুণী। রাস্তায় আসামিরা তাদেরকে বিয়ে দিবে বলে প্রলোভন দেখায় এবং একপর্যায়ে ভয় দেখিয়ে একটি ইজিবাইকে তুলে নেয়। এ সময় মেয়েটির প্রেমিক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিয়ে পুলিশের সহায়তা
চান। পরে আসামিরা তার মোবাইল কেড়ে নেয়। তাদেরকে উপজেলার সরকারপাড়া এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে নুর আলমের নির্মাণাধীন একটি ভবনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছেলেটিকে বেঁধে রেখে তরুণীকে আলাদা করে রাখা হয়। একপর্যায়ে ওই ছেলে কৌশলে সেখান থেকে বের হয়ে
চিরিরবন্দর থানায় চলে যান। এই সময়ের মধ্যে আসামিরা ওই মেয়েটিকে একটি ধানখেতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় ওই তরুণীকে রেখে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ভুক্তভোগীর মা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। এই ঘটনায় আমরা সঠিক বিচার চাই, ন্যায্য বিচার চাই। এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক।’ 

দিনাজপুর বাংলদেশ মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আখতার বলেন, আমরা এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ৭টি ছেলে ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিচার দাবি করছি। 

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার শাহ ইফতেখার আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে ওই মেয়েকে তার প্রেমিকের কাছ থেকে আলাদা করা হয়েছে। এরপর তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আসামিরা আত্মগোপনে আছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারও বন্ধ করা হয়েছে। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের নামে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।

দিনি আরও বলেন, পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এই ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।  
 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত