ভারতের দক্ষিণের রাজ্য কেরালার বাসিন্দা নিমিশা প্রিয়া পেশায় নার্স। কর্মসূত্রে থাকতেন ইয়েমেনে। সেখানেই সম্প্রতি তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তালাল আবদো মাহদি (৫৬) নামের এক ব্যক্তিকে দেখভালের সময় তাকে হত্যা করেছেন নিমিশা ও তার সঙ্গী ইয়েমেন-এর নাগরিক হানান। প্রথমে ইনজেকশন দিয়ে খুন এবং পরে দেহটি একটি পানির ট্যাঙ্কে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
কিন্তু নিমিশার বক্তব্য ওই ইয়েমেনি ব্যক্তি তাকে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করতেন। সেখান থেকে পালাতে চাওয়ায় নিমিশার পাসপোর্ট নিজের কাছে আটকে রেখেছিলেন তালাল। তাই তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে অচেতন করে পাসপোর্টটি উদ্ধার করতে চেয়েছিলেন নিমিশা। কিন্তু ওষুধের মাত্রা বেশি হওয়ায় প্রাণ হারান সেই ব্যক্তি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৮ সালে গ্রেপ্তার হন নিমিশা ও তার সহযোগী। নিমিশাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয় আদালত। আর তার সহায়তাকারীকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা। সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডের সাজার বিরুদ্ধে ইয়েমেন-এর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন নিমিশা। গত ১৩ নভেম্বর তার আর্জি খারিজ করে দেয় সেদেশের শীর্ষ আদালত। আপাতত ভারতীয় নার্সের প্রাণভিক্ষার বিষয়টি ইয়েমেন-এর প্রেসিডেন্টের কাছে বিবেচনাধীন রয়েছে।
এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, নিমিশার সাজা মওকুফের একটি মাত্র উপায় আছে। সেটি হলো নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ‘ব্লাডমানি’ দিতে হবে। ইয়েমেনি নিয়মানুসারে ব্লাডমানি হলো ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সম্মতিতে নির্ধারিত টাকা-পয়সা বা সম্পদ, যা তারা ক্ষতিপূরণ হিসেবে পান।
কিন্তু এটাও আপাতত সহজ নয় নিমিশার জন্য।কারণ ২০১৬ সাল থেকে ইয়েমেন ভারতীয়দের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আছে। এজন্য কোনো ভারতীয় যদি ইয়েমেনে যেতে চান তাহলে তাকে অবশ্যই সরকারের উর্ধতন পর্যায় থেকে অনুমতি নিতে হবে। অন্যদিকে, মেয়েকে বাঁচাতে নিমিশার মা ইয়েমেন যেতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। নিমিশার মাকে সহায়তা করা আইনজীবী সুভাস চন্দ্রন বলেন,’নিহতের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তাদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্লাডমানি দেওয়াই এখন নিমিশাকে বাঁচানোর একমাত্র পথ। টাকার ব্যবস্থা করা যাবে কিন্তু এখন দরকার সরকারের অনুমতি।’
