ইয়েমেনে যুদ্ধ ও মেধা পাচারে স্বাস্থ্যখাত ধসে পড়েছে

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৮ এএম

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট এবং চিকিৎসা খাতে কর্মীদের অভাবে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। দক্ষ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উন্নত জীবন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের খোঁজে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেধা পাচার বা ‘ব্রেইন ড্রেইন’-এর কারণে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য খাতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দেশে বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, প্রায় ১৮ শতাংশ এলাকায় কোনো চিকিৎসকই নেই।

দেশটির তায়েজ অঞ্চলের ৫০ বছর বয়সী আহমেদ নাগি দীর্ঘদিন পোর্টার হিসেবে কাজ করলেও লিভারের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে এখন চিকিৎসা ছাড়াই কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারায় তিনি স্থানীয় পর্যায়ের সীমিত সেবা নিয়েই বেঁচে আছেন।

অন্যদিকে, একই অঞ্চলের ৪৫ বছর বয়সী তাহা নাবিল চোখের ছানির অপারেশন করালেও ভুল চিকিৎসার কারণে এক চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন এবং অন্য চোখটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থের অভাবে তিনি উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ, বেতন অনিয়মিত হওয়া এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিপুল সংখ্যক চিকিৎসক দেশ ছাড়ছেন। ফলে দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনে প্রতি হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র ০.১ জন চিকিৎসক রয়েছে, যা বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক কম।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশটির প্রায় অর্ধেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র অচল হয়ে পড়েছে এবং প্রায় ২ কোটি মানুষ মৌলিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত।

চিকিৎসক সংকট মোকাবিলায় কিছু বিদেশি চিকিৎসক, বিশেষ করে সিরিয়া থেকে আসা ডাক্তারদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে সমস্যার পূর্ণ সমাধান হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, কম বেতন, সময়মতো বেতন না পাওয়া এবং কর্মপরিবেশের অবনতির কারণে স্থানীয় চিকিৎসকরা বিদেশে চলে যাচ্ছেন, যা পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ভেঙে দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে ইয়েমেনে স্বাস্থ্য খাত গভীর সংকটে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত