দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার জন্য তিনটি আসন থেকে ফরম কিনেছেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তার মনোনয়ন কেনার এই সিদ্ধান্ত নিয়ে চারদিকে চলছে আলোচনা সমালোচনা। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা সমালোচনা।
কেউ বলছেন সাকিব নির্বাচনে আসলে নির্বাচনের গুরুত্ব বাড়বে, আবার কেউ বলছেন বিশ্বকাপের ভরাডুবির পর সাকিবের মনোনয়ন সংগ্রহ প্রমাণ করে তিনি কি রকম মানুষ।
একপক্ষ মনে করে সাকিব আল হাসানকে সরকার নির্বাচনে নিয়ে এসে নির্বাচনের গুরুত্ব বাড়াতে চেষ্টা করছে আবার এমনও কিছু মানুষ আছেন যারা মনে করেন, নৈতিক জায়গা থেকে সাকিবকে নমিনেশন দেওয়া উচিত হবে না আওয়ামী লীগের।
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ আদনান ফাহাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, 'সাকিব আল হাসানকে নৌকার মনোনয়ন দেয়া ঠিক কাজ হবে না। সাকিবের মত মানুষ এমপি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। মুজিব কোট, নৌকা এগুলো এমন লোকরে মানায় না। মাশরাফি আর সাকিব কোনোভাবেই তুলনাযোগ্য না। মাশরাফির ব্যক্তিত্ব, ইমেজ সম্পূর্ণ আলাদা। মাশরাফি একজন দেশপ্রেমিক যোদ্ধা, সাকিব একজন ভাড়াটে সৈন্য। সাকিবকে না দিয়ে একজন প্রকৃত রাজনীতিবিদকে এসব আসনে মনোনয়ন দেয়া হোক। আওয়ামী লীগের এখন এটাই দরকার বেশি'।
তার পোস্টের নীচে মন্তব্য করেন রায়হান হোসাইন। তিনি বলেন, অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সংসদে উপস্থিতির অভাবের কারণেই এতসব সমস্যা। সব ব্যবসায়ী আর ফড়িয়ারা বসে আছে এমপি হয়ে। উৎপাদন যথেষ্ট থাকার পরেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়ার মূল কারণ এটা'।
আলী আকবর নামের আরেকজন লিখেন, 'শুধু সাকিব না, আমি মনেকরি মাশরাফিকেও মনোনয়ন দেয়া ঠিক ছিলোনা। রাজনীতি রাজনীতিবিদদের কাছেই থাকা উচিৎ'।
তিনি মনে করেন, 'একজন তৃণমূল রাজনৈতিক কর্মী রাজনীতির জন্য তাঁর জীবন ও যৌবনের সোনালী দিনগুলো উৎসর্গ করে। আর মাঝখানে ব্যবসায়ী আমলা, খেলোয়াড়, অমুক, তমুক এসে এম.পি হয়ে মধু খাবে, দু:খজনক'।
রাজধানীর প্রেসক্লাব এলাকায় কথা হয় মেহেদী হাসানের সাথে। তিনি বলেন, সাকিবের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বেশী। তার মতো একজন আন্তর্জাতিক তারকা নির্বাচনে অংশ নিলে আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক হবে।
নুরুল ইসলাম মনে করেন, আওয়ামী লীগ থেকে সিগন্যাল পেয়েই তিনি নির্বাচন করতে মাঠে নেমেছেন।সুতরাং তার এমপি হওয়া নিশ্চিত।
