চারতলা ভবনের কোথাও নেই কোনও আসবাব পত্র। একটি রুমেও অবশিষ্ট নেই কোনও দরজা কিংবা জানালা। টাইলসও ভেঙে ফেলা হয়েছে। পোড়া ছাইয়ের দাগ এখনও রয়েছে। ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে প্রায়ই বসে আড্ডা। যারা মূলত মাদক সেবন করে। এদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৪ থেকে ১৭ বছর। যদিও পুলিশের দাবি, বাড়িটি তাদের নজরদারিতে আছে।
এই চিত্র দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসের। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জিনজিরায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর উত্তেজিত জনতা ক্রোধে এসে সারা দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় আওয়ামী লীগের এই অফিসটিও পুড়িয়ে দেয় গত ৫ আগস্ট। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত। ভবনটি এখন মাদকসেবী আর কিশোর গ্যাংয়ের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এতে করে ভবনটির আশপাশের বাসিন্দারা একই সঙ্গে বিরক্ত ও আতঙ্কিত।
আশেপাশের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ভবনটিতে এখন চলছে মাদক সেবনসহ নানা ধরনের অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড। ফলে এই ভবন সংলগ্ন সড়ক দিয়ে চলাচলকারীরাও ভয়ে থাকেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, চারতলা ভবনের পুরোটাই ভাঙাচুরো অবস্থায় রয়েছে। ভেতরে ঢুকে ভবনের প্রতিটি তলায় কিছু লোকজনকে বসে আড্ডা দিতে দেখা যায়। এদের মধ্যে অনেকেই ১৪-১৬ বছর বয়সী কিশোরদের। এ আড্ডা মূলত মাদকসেবীদের। বেশ কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকেও দেখা যায় মাদক সেবনরত অবস্থায়।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, কোনও নজরদারি না থাকায় প্রায় সারা দিন এভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক, মাদকসেবী এবং মাঝে মাঝে নারীদের নিয়ে অনেকে এ বাড়িতে ঢোকে, বিশেষ করে রাতের বেলা এমন ঘটনা বেশি ঘটে। জিনজিরা এলাকার অপরাধের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ভবনটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ির মালিক জানন, গত ৭/৮ মাস ধরে এই বাড়ি ঘিরে মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এখানে আসা অনেকের বয়স ১৬ বছরের বেশি নয়। কেউ কেউ সন্ধ্যার পর থেকে সারারাত ভেতরে নেশা করে।
নাম না প্রকাশের শর্তে আরেকটি বাড়ির ম্যানেজার বলেন, আপনি এখানে কিছুক্ষণ দাঁড়ালেই বুঝে যাবেন, ভেতরে কি চলে। আমরা ভয়ে থাকি, কাউকে কিছু বলি না। কম বয়সী উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের আড্ডাখানা হয়ে গেছে এই জায়গা। মেয়ে নিয়েও অনেকে আসে। এই জায়গায় পুলিশও আসে না।
জিনজিরা আওয়ামীলীগ পার্টি অফিসের সামনের সড়ক দিয়ে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করেন মদেলোয়ার হোসেন মাসুদ। তিনি বলেন, আমার বাসা দিদার হোসেন রোড। রাতের বেলা যখন এদিক দিয়ে বাসায় ফিরি, তখন প্রায় সময়ই অনেককে দেখি নারী নিয়ে বের হচ্ছে বা ঢুকছে। তবে বেশি দেখা যায় কিশোর ছেলেদের।
তবে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি মনিরুল হক ডাবলু বলেন, এই ব্যাপারটি আমি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মৌখিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানতে পেরেছি। বাড়িটি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এর ফাঁকে যদি কেউ কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, তবে তাকে আইনের আওতায় আনবে পুলিশ।
পাশের বাড়ির বাসিন্দা আহমেদ বলেন বলেন, ভাঙচুর হওয়ার পর এই অফিস ঘিরে কিছুদিন আমাদের এলাকায় চোরের উৎপাত বেড়েছিল। তাই আমরা প্রথম কিছুদিন নজরদারিতে রেখেছিলাম। পরে ধীরে ধীরে আশপাশের এলাকার নেশাগ্রস্তদেরও আড্ডায় পরিণত হয়েছে এটি। ছোট-বড় তফাত নাই, সব বয়সের লোকই আসে এখানে। আমরা নিরাপত্তাঝুঁকিতে আছি।
