গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দা তরুণ চিকিৎসক আবদেলরাহমান আবু শোয়াইশ। উপত্যকার আজহার বিশ^বিদ্যালয়ের চিকিৎসাশাস্ত্র স্কুল থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করেছেন তিনি। ২৫ বছর বয়সী এই তরুণের জীবনে গাজার চলতি যুদ্ধ এক বিভীষিকা ও দুঃস্বপ্ন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আল-আকসা মার্টায়ার্স হাসপাতালের সার্জিক্যাল বিভাগে গত ১০ অক্টোবর থেকে তিনি স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাপ্রার্থী রোগীদের প্রত্যাশিত সেবা দিতে না পারার প্রত্যক্ষ সাক্ষী তিনি।
গাজা শহর এবং উত্তর গাজায় ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের কারণে সেখানকার হাসপাতালগুলো বন্ধ হওয়ার ফলে দেইর আল-বালার আল-আকসা মার্টায়ার্স হাসপাতাল উপত্যকার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। উপত্যকার ৩৫টি হাসপাতালের ২৬টিই এখন বন্ধ রয়েছে।
আবু শোয়াইশ বলেন, ‘ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়ে যখন কয়েক ডজন মানুষ একসঙ্গে হাসপাতালে আসে, তখন সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না। কারণ পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় সেগুলোকে জীবাণুমুক্ত না করে সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না।’ আহতদের শরীর থেকে বিস্ফোরণের শ্রাপনেল তথা শেল বের করে আনাও সম্ভব হচ্ছে না। জীবন রক্ষা করতে প্রয়োজনীয়টুকুই বের করা হচ্ছে। শ্রাপনেল শরীরে থাকলে অঙ্গহানি হতে পারে।
আবু শোয়াইশের স্বপ্ন ছিল তিনি জার্মান ভাষা শিক্ষা শেষ করে জার্মানিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এখন সেই স্বপ্নটা ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমার বড় স্বপ্ন ছিল যুদ্ধের আগে। কিন্তু এখন শুধু আশা করছি, আমি এবং আমার পরিবার কীভাবে জীবিত থাকতে পারি।’ বলে রাখা ভালো, তিনি যে আশ্রয়শিবিরে বেড়ে উঠেছেন, সেই নুসেইরাত আশ্রয়শিবিরে কয়েক দফা হামলার মুখে পড়েছে। সর্বশেষ সেখানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে ১৩ জন।
আবু শোয়াইশের মতো আরও তরুণ চিকিৎসকরা গাজায় অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। জাহরা এলাকায় পরিবারের বাড়িঘর ইসরায়েলি হামলায় ধ্বংস হওয়ার পর তিনিও স্বেচ্ছাশ্রম শুরু করেন। তিনি গাজার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাইকোথেরাপিতে অধ্যয়ন করেন। তিনি বলেন, ‘আপনি জানেন না, কাল কী ঘটবে। আপনি মরবেন না বাঁচবেন তাও জানেন না। তবে সবকিছু ছেড়ে দেওয়াও যায় না।’
