সফররত কমনওয়েলথ প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা জানার পাশাপাশি এখনকার পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করছে। গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর দলের প্রধান লিনফোর্ড এন্ড্রো সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘কমনওয়েলথের সদস্য যেকোনো দেশে অবজারভার পাঠানো একধরনের প্রথা। কয়েকটি উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা কাজ করি। এর অংশ হিসেবে নির্বাচন কমিশনসহ নানাধরনের অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়।’
কমিশনকে ধন্যবাদ দিয়ে লিনফোর্ড বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বেশ ভালো আলোচনা হয়েছে। কতটা প্রস্তুতি হয়েছে তা জানতে পেরেছি। সামনের দিকে তাকিয়ে আছি, আমাদের অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা হবে।’ তিনি জানান, ২২ নভেম্বর প্রতিনিধিদলের চলে যাওয়ার কথা রয়েছে। তারপর কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবেন তারা।
কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদলটি গত শনিবার ঢাকায় এসেছে। তারা বাংলাদেশে আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতি মূল্যায়ন করার জন্য এসেছেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিনিধিদলটিকে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও নির্বাচন পদ্ধতি, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানিয়েছে কমিশন।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব জাহাংগীর আলম জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ও অন্য চার কমিশনার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
সচিব বলেন, এটা কমনওয়েলথের একটি অগ্রবর্তী দল। পরিস্থিতি জেনে তারা কমনওয়েলথ সচিবালয়ে গিয়ে প্রতিবেদন দেবে। এরপর প্রতিবেদন পেয়ে কমনওয়েলথের পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আসবে কি আসবে না, সিদ্ধান্ত নেবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জাহাংগীর আলম জানান, রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো আলাচনা হয়নি। শুধু নির্বাচনপদ্ধতি, নির্বাচনী কর্মপদ্ধতি ও নির্বাচনী আইন, বিধিবিধান, ভোট ব্যবস্থাপনা, প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য কী ব্যবস্থা, নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ও প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট এবং ভোটের দিন যানবাহন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানতে চেয়েছে দলটি। সিইসি ও নির্বাচন কমিশনাররা তাদের জানিয়েছেন। এ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে প্রতিনিধিদল।
তিনি বলেন, ‘এটা দ্বিপক্ষীয় আলোচনা। তারা কিছু জানতে চেয়েছে, তুলে ধরেছি। তাদের কাজ হচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচন পদ্ধতির বিষয়ে জানা। অন্য কোনো প্রশ্ন তারা করেনি। জানতে চেয়েছে দেশের নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটাররা কীভাবে ভোট দিতে যাবে, ভোট নেওয়া হবে, ভোট স্বচ্ছ করতে গেলে ভোট পদ্ধতিসহ রিটার্নিং অফিসারসহ সবার কাজগুলো জেনেছেন।’ তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে কত সদস্যের দল আসবে সে বিষয়ে কমনওয়েলথ প্রতিনিধিদল কিছু জানায়নি।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠালেও পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক মিশন না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে ইইউ জানায়, তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য চার সদস্যের একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলও বাংলাদেশ সফর করে গেছে। তবে তারা পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
