বিশ্বকাপে ভারতের আগে ব্যাটিং করা মানেই যেন প্রতিপক্ষের জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তিনশর নিচে তো রানই করত না তারা। আর ফাইনালে সেই দলকেই আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে আড়াইশর নিচে আটকে দিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
এর পেছনে অজিদের বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত ও আহমেদাবাদের পিচের প্রভাবই বেশি দেখছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিং তো সরাসরিই বলেছেন, ভারতের পিচ তৈরির কৌশল স্বাগতিকদেরকেই বিপদে ফেলেছে।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের অসম বাউন্সের পিচে টস জেতাটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফাইনালের গুরুত্বপূর্ণ সেই জয়টি পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। টসে জিতে ফিল্ডিং নেন তিনি। কারণ ছিল একটাই—আলোর নিচে এই পিচে ব্যাটিং করা তুলনামূলক সহজ হবে।
ব্যাটিংয়ে নেমে ভারত ইনিংসের শেষ বলে অলআউট হয় ২৪০ রানে। ট্রাভিস হেডের ১২০ বলে ১৩৭ এবং মারনাস লাবুশেনের ১১০ বলে ৫৮ রানের ইনিংসে ভর করে এই রান অস্ট্রেলিয়া পেরিয়ে যায় ৪২ বল আর ৬ উইকেট হাতে রেখে।
ভারতের পিচের কৌশলই যে তাদের ফাইনালে হারিয়েছে, ধারাভাষ্য দেওয়ার সময়ই বলেছেন পন্টিং, ‘আজকের (গতকালের ম্যাচ) কন্ডিশন খুব, খুব উপমহাদেশীয়। উইকেট তৈরির কৌশলটা সম্ভবত ভারতকেই বিপদে ফেলেছে। আমার মনে হয় এমনটাই হওয়ার ছিল।’
অস্ট্রেলিয়ার দুটি বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক পন্টিংয়ের সঙ্গে একমত ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইনও। তার ভাষ্য, ‘ভারত এখনো দুর্দান্ত এক দলই আছে। কিন্তু (ফাইনালের) পিচই অস্ট্রেলিয়াকে লড়াইয়ে রেখেছে।’
ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভনের কাছে মনে হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া আসলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাময় দলের বিপক্ষে ৩২০ রানের দল নয়, ২৮০ রান করার দল। এমন একটি দলের বিপক্ষে ফাইনালের জন্য ভারত যে মন্থর পিচ বানানোর কৌশল নিয়েছে, সেটা রোহিত শর্মাদের জন্য বুমেরাং হয়েছে। তার ভাষায়, ‘কৌশলগত দিক থেকে তারা (অস্ট্রেলিয়া) খুবই চতুর দল। পরিষ্কারভাবেই তাদের চতুর একটি থিংকট্যাংক আছে। আমি মনে করি না তারা ৩২০ রান করার দল। তারা আসলে ২৮০ রানের দল। এ কারণেই এ ধরনের পিচ বানানোয় অস্ট্রেলিয়ার সুবিধা হয়েছে, তাদের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
ভন এরপর যোগ করেন, ‘প্যাট কামিন্স যা বলেছিল, তারা সেটাই করেছে। দর্শকদের চুপ করিয়ে দিয়েছে। আর এটা তারা দুর্দান্তভাবে করেছে। আমি জানি না যে অস্ট্রেলিয়া ৪৩ ওভারের মধ্যে ম্যাচ শেষ করে ফেলবে বলে কেউ ভেবেছিল কি না।’
