রাজধানীতে অব্যাহত বায়ু দূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যর্থতায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট।
আদালত বলেছেন, ‘কর্মকর্তাদের সন্তানেরা তো বিদেশে থাকে। তাদের তো বিশুদ্ধ বাতাসের প্রয়োজন নেই।’ সোমবার (২৭ নভেম্বর) বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করে।
সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় আগে ঢাকায় বায়ু দুষণ রোধে হাইকোর্টের দেওয়া নয়টি নির্দেশনার কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে তার সবশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন দুই সপ্তহের মধ্যে জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।
মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি এক রায়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নয়টি নির্দেশনা দেয় আদালত। এর মধ্যে ঢাকায় নির্মাণ ও উন্নয়নকাজ চলছে এমন এলাকায় চারপাশ ঘিরে রেখে কাজ করা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, ঢাকার বিভিন্ন সড়কে ও উন্নয়ন, নির্মাণকাজ চলছে এমন এলাকায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পানি ছিটানো এবং ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতে থাকা সকল অবৈধ ইটভাটা বন্ধসহ আরও নির্দেশনা ছিল।
এদিন রিট আবেদনকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ অব্যাহত বায়ুদূষণ, সাভারে অবৈধ ইটভাটা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. বিল্লাল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান জামান।
হাইকোর্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তাদের দায়ী করে বলেন, ‘কর্মকর্তাদের কেউ কেউ অবৈধ ইটভাটা পরিচালনার অনুমতি দেন। এ কারণেই এত বায়ু দূষণ হয়। তাদের সন্তানেরা তো বিদেশে থাকে। তাই তাদের বিশুদ্ধ বাতাসের প্রয়োজন নেই। বিদেশেই তারা বিশুদ্ধ বাতাস পায়।’
আদালত এ সময় ডিএসসিসির আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বায়ু দূষণ রোধের পদক্ষেপ জানতে চান। আইনজীবী বলেন, তারা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকায় ধুলো বালি নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো হচ্ছে।
হাইকোর্ট এ সময় বলে, শুধু ভিআইপি এলাকায় বায়ু দূষণ রোধে পানি ছিটালে হবে না, সব এলাকাতেই এটি করতে হবে। শুনানিকালে হাইকোর্ট ডেঙ্গুর ভয়াবহতার প্রসঙ্গ তোলে আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলে, মানুষ ডেঙ্গুতে মারা যাচ্ছে। কিন্তু সংক্রমণ ও নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১১ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে।
