স্নাতক ডিগ্রিধারী বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৩, ১০:০৭ পিএম

দেশে বাড়ছে সাক্ষরতার হার। ২০১১ সালেও যেখানে দেশে সাক্ষরতার হার ছিল মাত্র ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, তা ২০২২ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৮০ শতাংশে। দেশে ১০ বছরে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে স্নাতক ডিগ্রিধারী। তবে গত দশ বছরে অ-প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষিত হয়েছে ৩.৪০ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২-এর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রকাশনা উদ্বোধন করবে। সেই প্রতিবেদন সূত্রেই এ তথ্য জানা গেছে। 

জনশুমারির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত এক দশকে ডিগ্রি বা স্নাতক পাস করেছে ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০১১ সালে স্নাতক ডিগ্রিধারী ছিল ১ দশমিক ৯২ শতাংশ। মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছে এক দশমিক ৭২ শতাংশ, যেখানে ২০১১ সালে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী  ছিল শূন্য দশমিক ৮২ শতাংশ।

গত বছরের ২৭ জুলাই শুমারি শেষ হওয়ার এক মাসের মাথায় জনশুমারি ও গৃহ গণনার প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করে বিবিএস। জনশুমারির সেই প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী- বাংলাদেশে বর্তমানে মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬। তবে জনশুমারি তথ্য যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস নিট কাভারেজ ইরর পায় ২.৭৫ শতাংশ। সেই ইরর যোগ করে বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১। এরআগে ২০১১ সালের আদমশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী সে সময় দেশের জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৪৩ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৩।

জনশুমারিতে সাক্ষরতার হারের তথ্য দেখা যায়, ২০১১ সালে যেখানে দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ সেখানে ২০২২ সালে সাক্ষরতার হার দাঁড়িয়েছে ৭৪.৮০ শতাংশে। অর্থাৎ সাক্ষরতা হার বেড়েছে ২৩ শতাংশ। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে ২০.৭৭ শতাংশ কখনো স্কুলে যায়নি। স্কুলে গেলেও ক্লাস ওয়ান শেষ করেনি ১ দশমিক ১৭ শতাংশ। ২.৩২ শতাংশ প্রাক প্রাথমিকে পড়েছে। ক্লাস ওয়ান পর্যন্ত পড়েছে ১. ৭৩ শতাংশ। আর প্রাথমিক শিক্ষা অর্থাৎ পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে ২৫. ৯১ শতাংশ।

প্রতিবেদন দেখা যায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে ১৬.১৮ শতাংশ। এসএসসি পাশ করেনি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এসএসসি পাশ করেছে ৮ দশমিক ৮২ শতাংশ। এইচএসসি পাশ করেছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।

এদিকে বিবিএসের প্রায়োগিক সাক্ষরতা নিয়ে করা জরিপে বলা হয়েছে, দেশে সাত বছরের ঊর্ধ্ব বয়সীদের মধ্যে ২৬ শতাংশ মানুষ প্রায়োগিক সাক্ষরতার বাইরে রয়েছে। আর ১১ শতাংশ মানুষ আংশিক সাক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন। বাকি ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ মানুষের প্রায়োগিক সাক্ষরতা রয়েছে। আর ৭-১৪ বয়সী শিশুদের মধ্যে এ হারে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে আছে মেয়েরা।

জরিপে দেখা যায়, দেশের ৭-১৪ বছর বয়সীদের প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এদের মধ্যে মেয়েদের হার ৭৬ শতাংশ আর ছেলেদের হার ৬৯ শতাংশ। শহর এবং গ্রামেও মেয়েদের এ হার ছিল বেশি। গ্রামে ৬৭ শতাংশ ছেলের বিপরীতে মেয়েদের হার ছিল ৭৫ শতাংশ। আর শহরে মেয়েদের ৭৯ শতাংশের বিপরীতে ছেলেদের হার ছিল ৭৩ শতাংশ।

জরিপে বলা হয়, ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ সাক্ষরতাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে ১৯ শতাংশ এবং উন্নত পর্যায়ে রয়েছে ৪৩ শতাংশ মানুষ। ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নিয়ে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে এ জরিপ তৈরি করা হয়েছে।

জরিপে বলা হয়, ৭-১৪ বয়সী শিশুদের মধ্যে ১৪ শতাংশের প্রায়োগিক সাক্ষরতা নেই। আর আংশিক হার ১২ শতাংশ। ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ২৮ শতাংশের সাক্ষরতা নেই। ১০ শতাংশের আংশিক সাক্ষরতা আছে। আর ১৫ বছরের বেশি নাগরিকদের সাক্ষরতার এ হার ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত