খনি অঞ্চলে যেভাবে ইদুঁর গর্ত করে অনেকটা সেই স্টাইলেই ভারতের উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছতে চাইছে উদ্ধারকারীরা। অক্সিজেন মাস্ক, প্রতিরক্ষামূলক চশমা এবং বায়ু সঞ্চালনের জন্য ব্লোয়ার দিয়ে সজ্জিত হয়ে পাহাড় কেটে ধীরে ধীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমানো হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের অগার মেশিন। শুরু হয়েছে ম্যানুয়াল ড্রিলিং। সোমবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকে পাহাড় কেটে উল্লম্ব খনন শুরু করেছে উদ্ধারকারীরা। খনন শুরু হয়েছে শ্রমিকরা যেখানে আটকে রয়েছে তার দুই দিক থেকেই। একদিকে উদ্ধারকারী দলকে ৮৬ মিটার যেতে হবে।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী- সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩৬ মিটার ড্রিলিংয়ের কাজ সম্পূর্ণ। অর্থাৎ এখনো প্রায় ৫০ মিটার খনন করতে হবে। তাহলেই পৌঁছানো যাবে সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে। সুড়ঙ্গের অন্যপ্রান্তেও শুরু হয়েছে খনন পর্ব। সেদিকেও প্রায় ৩১ মিটার খনন করেছে উদ্ধারকারীরা।
ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এনডিএমএ) সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল সায়েদ হাসনায়েন জানিয়েছেন, ইঁদুরেরা যে পদ্ধতিতে খনি এলাকায় গর্ত খোঁড়ে সেই পদ্ধতিতে সুড়ঙ্গের দুই পাশ থেকে খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়েছে। ছোট ছোট সুড়ঙ্গ তৈরি করে শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা হচ্ছে। আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে বিকল্প মোট ছয়টি উপায় ভাবা হয়েছে। উল্লম্ব খননকাজ কোনোভাবে ব্যর্থ হলে অন্য পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হবে।
সুড়ঙ্গের কাজ চলাকালীন গত ১২ নভেম্বর পাহাড়ে ধস নামে। এ সময় সুড়ঙ্গে আটকে পড়ে ৪১ জন শ্রমিক। এরপর ১৫ দিন সময় কেটে গেছে। উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গ থেকে এখনো বের করে আনা সম্ভব হয়নি শ্রমিকদের।
