শিবচরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:৪৯ পিএম

মাদারীপুরের শিবচরে এক স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিবচর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. সুমন মিয়া শিকদার। তিনি শিবচরের বাজিতপুর হাজেরা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।

জানা গেছে, শিক্ষক সুমন মিয়া শিকদারের কাছে গত ২৩ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকেলে স্কুল সংলগ্ন একটি কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে যায় ওই স্কুলের এক ছাত্রী। তবে সে গিয়ে দেখে তার অন্য সহপাঠীরা সেখানে নেই। ওই শিক্ষক একা পেয়ে ওই ছাত্রীর গায়ে হাত দেয়। এ ছাড়া ছাত্রীকে কুপ্রস্তাবসহ নানাভাবে যৌন হয়রানির চেষ্টা করে সুমন।

পরে ওই ছাত্রী কোচিং সেন্টার থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারকে জানায়। পরে তারা স্কুলের প্রধান শিক্ষক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। এতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় শিবচর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি বাজিতপুর হাজেরা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বাসার মিয়া নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বুধবার দুপুরে আমাকে জানানো হয়। ঘটনাটি স্কুলের সময়ের বাইরে হয়েছে, ঘটনাস্থলও বাইরে। অভিযোগের ব্যাপারে ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকদের নিয়ে সভা করে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে ওই শিক্ষক যদি দোষী প্রমাণিত হয় তবে প্রতিষ্ঠানিকভাবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্কুল ছাত্রীর বাবা জানান, গত বুধবার সকালে তার মেয়ে অন্য দিনের মতোই স্কুলে যায়। স্কুল শেষে সুমন শিকদারের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। পরে কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে জানায়, শিক্ষক তার সঙ্গে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করেছে। পরে পুরো ঘটনা খুলে বলে। তারপর আমি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করি। পরে শিবচর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

শিক্ষকের শাস্তি দাবি করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, প্রাইভেট পড়ার সময় শিক্ষক সুমন শিকদার তাকে কুপ্রস্তাবসহ জোরপূর্বক তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। এ সময় সে প্রতিবাদ করে কোচিং সেন্টার থেকে বাইরে চলে আসে।

অন্য এক ছাত্রীর অভিভাবক বলেন, আমরা ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য স্কুলে পাঠিয়ে নিরাপদ মনে করি। কিন্তু শিক্ষক সুমন শিকদারের অনৈতিক কজে হতবাক হয়েছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ওই সহকারী শিক্ষক সুমন শিকদারকে মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার মো. মাকসুদুর রহমান বলেন,  স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে অবগত করেছেন। এসব ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার জানান, সুমন শিকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত