খেলাপি প্রার্থী খুঁজতে ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:০০ এএম

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে কেউ ঋণখেলাপি আছেন কি না তা যাচাই করে দেখতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তবে ক্ষুদ্র কৃষি ঋণখেলাপি হলে ছাড় দেওয়া আছে।

রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়, পত্রিকা ও অন্যান্য উৎস থেকে ব্যাংকের উদ্যোগে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ব্যক্তিদের তালিকা সংগ্রহ করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণখেলাপিদের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করে তার সঙ্গে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া ব্যক্তিদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে নির্দেশনা দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক আলাদা দুই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

‘গণ-প্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২’-এর ১২ অনুচ্ছেদের ধারা-১ অনুযায়ী, ‘কোন ব্যক্তি কৃষি কাজের জন্য গৃহীত ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ ব্যতীত, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখের পূর্বে কোন ব্যাংক হইতে গৃহীত কোন ঋণ বা ঋণের কোন কিস্তি পরিশোধে খেলাপি হইয়া থাকিলে, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হইবেন।’

একই অনুচ্ছেদের ধারা-১-এর উপধারা (এম) অনুযায়ী, ‘কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার হন, যা কোন ব্যাংক হইতে গৃহীত কোন ঋণ বা ঋণের কোন কিস্তি তাহার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখের পূর্বে পরিশোধে খেলাপি হইলে, তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হইবেন।’

আগামী ৭ জানুয়ারি রবিবার ভোটগ্রহণের দিন রেখে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ১৫ নভেম্বর ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত, তা বাছাই হবে ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। তার তিন সপ্তাহ পর হবে ভোটগ্রহণ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর প্রার্থীদের মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন।

প্রজ্ঞাপন দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ঋণখেলাপি কোনো প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ত পরিচালক বা অংশীদার বা ব্যক্তি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলে তথ্য-প্রমাণসহ প্রত্যেক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পাঠাতে হবে। ব্যাংক/বিশেষায়িত ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক/ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোনয়নপত্র দাখিলের পরপরই রিটার্নিং অফিসারের নিকট হইতে প্রার্থীদের (পিতা/মাতা/স্বামীর নাম ও ঠিকানাসহ) তালিকা সংগ্রহ করিবেন এবং প্রার্থীদের ঋণখেলাপি সম্পর্কিত তথ্য-প্রধান কার্যালয়ে জানাবেন। শাখা ব্যবস্থাপক/ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত অথবা অন্য কোন উৎস হইতে প্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকার সহিত শাখাসমূহে হালনাগাদকৃত খেলাপি ঋণ গ্রহীতার তালিকা মিলাইয়া দেখিবেন এবং তাহার শাখাভুক্ত কোন ঋণখেলাপি প্রার্থী হইয়াছেন কি না উহা নিশ্চিত হইবেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের পরপরই রিটার্নিং অফিসারের নিকট হইতে প্রার্থীদের (পিতা/মাতা/স্বামীর নাম ও ঠিকানাসহ) তালিকা সংগ্রহ করে প্রধান কার্যালয়ে বিশেষভাবে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। কোনো খেলাপি ব্যক্তি মনোনয়নপত্র জমা দিলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রিটার্নিং অফিসার কর্তৃক মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/বিশেষায়িত ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা ব্যবস্থাপক/ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ঋণখেলাপির তথ্য ও কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে বলা হয়। খেলাপি-সংক্রান্ত সব তথ্যের দায় সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে। তথ্য ভুল বা তথ্য উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন থেকে বাছাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ছুটির দিনেও রিটার্নিং অফিসার বা নিজ দপ্তরে উপস্থিত থেকে সহায়তা করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকায়, খেলাপির হার ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত