যুক্তরাষ্ট্রের শহর নিউইয়র্কে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে দুই শিশুসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আহত হয়েছেন তিনজন। পরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে হামলাকারী নিজেও।
রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তাসংস্থা বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউইয়র্কের কুইন্সে ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের দুই শিশুসহ চারজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ফোন পাওয়ার পর রোববার ভোররাতে কুইন্সের ফার রকওয়ে এলাকায় আগুন লাগিয়ে দেওয়া একটি বাড়িতে ক্ষতিগ্রস্তদের খুঁজে পায়।
অভিযুক্ত ওই হামলাকারী দুই পুলিশ অফিসারকেও ছুরিকাঘাত করে। একপর্যায়ে আহত একজন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে গুলি করেন। পরে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
জ্যামাইকা হাসপাতালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায় যে, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ১০ মিনিটে ৯১১ নাম্বারে একটি ফোন কল আসে। সেখানে এক তরুণী বলেন, তার চাচাতো ভাই তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করছে।
নিউইয়র্ক পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তির নাম কোর্টনি গর্ডন বলে জানিয়েছে। ৩৯ বছর বয়সী এই ব্যক্তি এর আগে ব্রঙ্কসে পারিবারিক সহিংসতার জন্য গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
পুলিশ জানায়, ফোন পাওয়ার পর দুই অফিসারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হলে তারা সেখানে একজন পুরুষকে লাগেজ নিয়ে হাঁটতে দেখেন। অফিসাররা ওই ব্যক্তির সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে সে একটি ছুরি বের করে এবং একজন অফিসারকে ঘাড়ে ও বুকে ছুরিকাঘাত করে এবং দ্বিতীয় অফিসারের মাথায় আঘাত করে।
একপর্যায়ে আহত একজন অফিসার তার আগ্নেয়াস্ত্র বের করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গুলি করতে সক্ষম হন।
বিবিসি জানিয়েছে, ওই বাড়ির সামনে ১১ বছর বয়সী একটি মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া জরুরি পরিষেবার সংস্থাগুলো বাড়ির ভেতরে আরও তিনজনের মৃতদেহ খুঁজে পায়। নিহত এই তিনজনের মধ্যে একজন ১২ বছর বয়সী ছেলে, একজন ৪৪ বছর বয়সী নারী এবং অন্যজন ৩০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষ।
এছাড়া আহত ৬১ বছর বয়সী একজন নারীকে একাধিক ছুরিকাঘাতের ক্ষতসহ মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নিহতদের সকলেরই ছুরিকাঘাতের ফলে মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে এবং ঘটনাস্থল থেকে ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে এ ঘটনার তদন্ত চলছে এবং যে তরুণী পুলিশকে ফোন করেছিলেন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
