সম্পদের পাহাড় সালাম মুর্শেদী দম্পতির 

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ১১:৪৩ পিএম

খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়েছেন। গত পাঁচ বছরে তার নিজের, স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের আয়-সম্পদ দুটি বেড়েছে। পাঁচ বছর আগে বার্ষিক আয় ছিল ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ৮ কোটি ২ লাখ টাকা। নির্ভরশীলদের আয় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা; যা পাঁচ বছর আগে ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। 

তার স্ত্রীর ১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে, যা ২০১৮ সালে ছিল ১২ কোটি ৩১ লাখ টাকার। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আবদুস সালাম মুর্শেদী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সম্পদের এই হিসাব জমা দিয়েছেন।

হলফনামায় দেখা গেছে, খুলনা-৪ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীর বার্ষিক আয় ৮ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার ৪৬৭ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে আয় ১৫ লাখ ৫২ হাজার ২৮৪ টাকা, ব্যবসা-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পারিতোষিক আয় ১ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শেয়ার-সঞ্চয়পত্র-ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৬ কোটি ৪০ লাখ ৮০ হাজার ১৮৩ টাকা। প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের (মেয়ে) আয় ১ কোটি ৫৯ লাখ ১৬ হাজার ৮০১ টাকা। 

এর মধ্যে বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে স্ত্রীর আয় ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৬৭৯ টাকা, ব্যবসা-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে পারিতোষিক আয় ১ কোটি ২৫ লাখ ৫ হাজার ৭৩৩ টাকা এবং শেয়ার-সঞ্চয়পত্র-ব্যাংক আমানত থেকে আয় ২৩ লাখ ৪১ হাজার ৩৮৯ টাকা। 

বর্তমানে সালাম মুর্শেদীর ১৩৭ কোটি ৯১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৩৪ টাকার সম্পদ রয়েছে। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ২৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫০ টাকা, ব্যাংকে জমা রয়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ টাকা। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ৯৪ কোটি ৪২ লাখ ৫৭ হাজার ২৮৫ টাকার। গাড়ি ও গৃহ সম্পত্তি রয়েছে ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যান্য অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ২৫ কোটি ৮৬ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকার। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ১১ কোটি ৫৫ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪ টাকা মূল্যের ভবন। ব্যাংকে তার ঋণ রয়েছে ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬৪ হাজার ৬২১ টাকা। 
এ ছাড়া তার স্ত্রীর ১৮ কোটি ৩৬ লাখ ২৭ হাজার ৭৭৭ টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে নগদ ১ কোটি ৮৬ লাখ ৯৯ হাজার ৯৭১ টাকা, ব্যাংকে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৭৩০ টাকা এবং ৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩ হাজার ৭০৯ টাকার শেয়ার রয়েছে, স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর অলংকার রয়েছে ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকার। অন্যান্য সম্পদ রয়েছে ৭ কোটি ৩৩ লাখ ৮ হাজার ৩৬৭ টাকা মূল্যের। তার ওপর নির্ভরশীলের ২৪ কোটি ৯১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৮৫ টাকার সম্পদ রয়েছে। নগদ ২ কোটি ৩৬ লাখ ১৩ হাজার ৬৫৭ টাকা, ব্যাংকে ২৯ লাখ ৮৯ হাজার ২৭৭ টাকা এবং ১৭ কোটি ৯৪ লাখ ৯২ হাজার ২৩০ টাকার শেয়ার রয়েছে, স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর অলংকার রয়েছে ৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকার। অন্যান্য সম্পদ রয়েছে ৪ কোটি ২৭ লাখ ৫৪ হাজার ৬২১ টাকা মূল্যের।

২০১৮ সালে মুর্শেদীর হলফনামায় উল্লেখ ছিল, বার্ষিক আয় ৬ কোটি ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৪৫৫ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে আয় ১৬ লাখ ৪২ হাজার ২৮৪ টাকা, ব্যবসা-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বেতন-ভাতা বাবদ আয় ২ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার ৭০০ টাকা, শেয়ার-সঞ্চয়পত্র-ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭১ টাকা। 

প্রার্থীর ওপর নির্ভরশীলদের আয় ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ২৩৭ টাকা। এর মধ্যে বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান বা অন্যান্য ভাড়া থেকে স্ত্রীর আয় ১১ লাখ ২৯ হাজার ১২৯ টাকা, ব্যবসা-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে বেতন-ভাতা বাবদ আয় ৩২ লাখ ৬২ হাজার ৪২৫ টাকা ও শেয়ার-সঞ্চয়পত্র-ব্যাংক আমানত থেকে আয় ৭৩ লাখ ১০ হাজার ৬৮৩ টাকা।
২০১৮ সালে সালাম মুর্শেদীর নিজের ৯৫ কোটি ১১ লাখ  ৮৬ হাজার ২৯০ টাকার সম্পদ ছিল। তার স্ত্রীর ১২ কোটি ৩১ লাখ টাকার এবং নির্ভরশীলের (মেয়ে) ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫১ হাজার ৮১০ টাকার সম্পদ রয়েছে। 

বর্তমানে নিজেকে পাবলিক-প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং পোশাকশিল্প, বস্ত্রশিল্প, ব্যাংক, হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে উল্লেখ করেছেন আবদুস সালাম মুর্শেদী। তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাস।
২০১৮ সালের উপনির্বাচনে আবদুস সালাম মুর্শেদী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের দলের মনোনয়ন নিয়ে তিনি বিজয়ী হন। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে প্রার্থী হয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত