৫৪ বছরের আক্ষেপ ভাঙছে দেবীগঞ্জে : আসছেন নিজ এলাকার এমপি

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার জন্য আসতে যাচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক মাইলফলক। প্রথমবারের মতো এই উপজেলার কোনো সন্তান জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাচ্ছেন। সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের মনোনয়ন ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে জোটগত সিদ্ধান্তে তার মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা এলাকার চায়ের দোকান সবখানেই আলোচনায় তাসমিয়া প্রধান।

পঞ্চগড়-২ (দেবীগঞ্জ-বোদা) আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বাধীনতার পর থেকে এই আসন থেকে নির্বাচিত কেউই দেবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন না। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নির্বাচিত হলেও তারা বোদা উপজেলার হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এক ধরনের বঞ্চনার অনুভূতি ছিল। তাসমিয়া প্রধানের এই মনোনয়ন সেই দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণের সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

দেবীগঞ্জের জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা ওয়াসিস আলম বলেন, এতদিন ধরে আমরা চেয়েছি আমাদের এলাকার একজন সংসদে গিয়ে আমাদের সমস্যার কথা তুলে ধরুক। অবশেষে সেই প্রত্যাশা পূরণের পথ তৈরি হয়েছে। তাসমিয়া প্রধান আমাদের এলাকার মানুষ, তাই তার প্রতি আমাদের আলাদা প্রত্যাশা রয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী সিরাতুল মোস্তাকিম বলেন, বরাবরই বড় রাজনৈতিক দলগুলো থেকে দেবীগঞ্জে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দেবীগঞ্জের সাথে বিমাতা সুলভ আচরণ করা হয়েছে। দেবীগঞ্জের সন্তান হিসেবে তাসমিয়া প্রধানের সংসদে যাওয়াটা অবশ্যই এই এলাকার মানুষের জন্য প্রাপ্তি। তবে বেশির ভাগ সময় তাসমিয়া প্রধানের এলাকায় অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও জন প্রত্যাশায় যেন ভাটা না পড়ে সে বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই গণমাধ্যমকর্মী।

তাসমিয়া প্রধানের জন্ম দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের একটি রাজনৈতিক পরিবারে। তার বাবা মজলুম জননেতা মরহুম শফিউল আলম প্রধান ছিলেন দেশের পরিচিত রাজনীতিক এবং জাগপার প্রতিষ্ঠাতা। তার দাদা গমির উদ্দিন প্রধান পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের শেষ স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় তাসমিয়া প্রধান জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তিনি লন্ডনের সোসাইটি অব লিংকনস ইন থেকে ‘বার অ্যাট ল’ ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৮ সালে জাগপার সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। একই বছরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসন থেকে অংশ নিয়ে তিনি ওই আসনের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আসেন।

এখন দেবীগঞ্জবাসীর দৃষ্টি ভবিষ্যতের দিকে এই মনোনয়ন বাস্তবে রূপ নিয়ে কবে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করে এবং উপজেলাটি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন পরিচয় পায়, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত