গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ফিলিস্তিনের তরুণ প্রজন্মের বিখ্যাত কবি এবং শিক্ষাবিদ রেফাত আলারির। প্রখ্যাত এই কবি ও শিক্ষাবিদকে 'গাজার কণ্ঠস্বর' হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
স্থানীয় সময় বুধবার গাজা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ নিহত হন তিনি। খবর আল জাজিরা।
৪৪ বছর বয়সী আলারির গাজার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ের একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি সেখানে শেকসপিয়ার ও অন্যান্য বিষয়ে পড়াতেন।
অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় তরুণ প্রজন্মের লেখকদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। গাজার বাসিন্দাদের দুঃখ দুর্দশার কথা বিশ্ববাসীকে জানাতে ইংরেজিতে লিখতেন রেফাত।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে গাজার আরেক কবি ও প্রয়াত রেফাত আলারিরের বন্ধু মোসাব আবু তোহা বলেন, 'আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। আমার বন্ধু ও সহকর্মী রেফাত আলারির ও তার পরিবারকে কয়েক মিনিট আগে হত্যা করা হয়েছে।'
তিনি 'উই আর নট নাম্বারস' (আমরা নিছক সংখ্যা নই) নামে একটি প্রকল্পের সহ প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। এই প্রকল্পের আওতায় গাজাভিত্তিক লেখকরা দেশের বাইরের অভিজ্ঞ লেখকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেতেন। বিদেশী লেখকরা গাজার লেখকদের ইংরেজিতে লেখার বিষয়ে দীক্ষা দিতেন।
নভেম্বরে আলারির এক্সে একটি কবিতা প্রকাশ করেন, যার শিরোনাম ছিল 'যদি আমাকে মরতেই হয়'। এই পোস্টটি বেশ কয়েক লাখ বার শেয়ার করা হয়। এই কবিতার শেষ লাইনটি ছিল, 'আমাকে যদি মরতেই হয়, তাহলে সেই মৃত্যুর হাত ধরে আসুক আশা, আমার মৃত্যু হয়ে উঠুক এক উপাখ্যান।'
পরিবারসহ উত্তর হাজাতে থাকতেন কবি রেফাত আলারির। অক্টোবরে ইসরায়েল বোমা হামলা ও স্থল অভিযান শুরুর পর উত্তর গাজা ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
উত্তর গাজা থেকে নিয়মিতভাবে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান হামলা ও গোলাগুলির মাধ্যমে কীভাবে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি, ব্যবসা এবং জীবন ধ্বংস করছে তা আপডেট দিতেন তিনি।
মারা যাওয়ার কয়েকদিন আগে নভেম্বরে আলারির সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি কবিতা প্রকাশ করেন, যার শিরোনাম ছিল 'যদি আমাকে মরতেই হয়'। এই পোস্টটি বেশ কয়েক লাখ বার শেয়ার করা হয়। পোস্টে তিনি বলেছিলেন, যদি তিনি মারা যান, তাহলে খবরটি "একটি গল্প" হয়ে যাবে।
