যে পদ্ধতিতে পেসার মোকাবেলার কৌশল শিখিয়েছিলেন গিলের বাবা

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১২ পিএম

পেস বোলারদের চোখের ঘুম যেন কেড়ে নিয়েছেন শুবমান গিল। তার ধুন্ধুমার ব্যাটিংয়ে মাতিয়ে তুলেন গ্যালারি। কিন্তু কিভাবে তিনি পেসারদের সামলানোর কৌশল রপ্ত করেছেন, সেটা এবার খোলাসা করলেন তার বাবা লখবিন্দর সিং। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি সেটি। ভারতের গৃহস্থালিতে ঘুমানোর জন্য প্রচলিত ‘চারপয়’ এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে সাহায্য করেছে।

লখবিন্দর অন্য প্রান্তে ব্যাট করার সময় চারপয়ের উপর বল নিক্ষেপ এবং ছিটকে যাওয়ার অপ্রচলিত পদ্ধতির বর্ণনা দিয়েছেন। এই পদ্ধতির লক্ষ্য ছিল পেসারদের বিপক্ষে উচ্চগতি ও বাউন্সকে সামলানোর কৌশল যেন গিল সহজে রপ্ত করতে পারেন। এই প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যখন ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান বর্তমান ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে পেস বোলারদের বিরুদ্ধে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে গিলের বাবা লখবিন্দর টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘খেলার প্রতি তার আগ্রহ দেখে আমি তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি তাকে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ বল খেলতে বাধ্য করেছি। তাকে ফাস্ট বোলিং সামলাতে পারদর্শী করে তোলার জন্য আমি একটি মাঞ্জির (চারপয়)-এর ওপর বল ছুঁড়ে মারতাম। চারপয় থেকে ছিটকে যাওয়ার পরে বলটি দ্রুত গতিতে চলতে থাকে। এ ছাড়া ব্যাট হাতে একক স্টাম্প নিয়ে অনুশীলন করেছেন তিনি। এটি শুভমানকে প্রায়শই ব্যাটের মাঝামাঝি খুঁজে পেতে সহায়তা করেছিল।’

এছাড়াও, শুভমান গিলের বাবা আরও বলেছিলেন যে মোহালিতে তাদের স্থানান্তর গিলকে শীর্ষস্থানীয় প্রশিক্ষণ এবং কোচিং দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছিল। মূলত পাঞ্জাবের ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের নিকটবর্তী একটি ছোট গ্রাম ফাজিলকার চাক খেরে ওয়ালার বাসিন্দা গিলের পরিবার মোহালিতে স্থানান্তরিত হয়। এই পদক্ষেপের ফলে তিনি মোহালির পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ব্যাপক প্রশিক্ষণ এবং অনুশীলনের সুযোগ পেয়েছিলেন, যা তার ক্রিকেট দক্ষতা এবং ফিটনেস উভয়ই বাড়িয়ে তোলে।

গিলের বাবা বলেন, ‘আমাদের গ্রাম মোহালি থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু সেখানে সুযোগ-সুবিধার অভাবে আমরা তাকে এখানে (মোহালিতে) নিয়ে এসেছি। ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে আমরা তাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছি। তাকে বিশ্বমানের ক্রিকেটার হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমরা তাকে ১৫ বছর উৎসর্গ করেছি। এমনকি আমরা আমাদের কাজ ছেড়ে দিয়েছি এবং আমাদের আত্মীয়দের বিবাহ অনুষ্ঠান সহ বেশ কয়েকটি পারিবারিক অনুষ্ঠান বাদ দিয়েছি যাতে আমরা যতটা সম্ভব তাকে সময় দিতে পারি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত